ময়মনসিংহে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এতে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ অক্টোবর) রাত দুইটার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম এ মামলা করেন।
এর আগে, ওই ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিএনপির সমাবেশস্থল পলিটেকনিক মাঠ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করে স্টেশন চত্বর এলাকায় চলা আওয়ামী লীগের অবস্থা কর্মসূচিতে হামলা, রাস্তায় জনগণের চলাচলে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করার জন্য রেলওয়ে স্টেশন কৃষ্ণচূড়া চত্বরে জমায়েত হয়। এতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে সন্ধ্যার দিকে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ শেষে কয়েকশো নেতাকর্মী নগরীর বাঘমারা এলাকা দিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে গেলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যায়। এ সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশসহ তিন আওয়ামী লীগ নেতা আহত হয়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এই বিষয়ে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার জন্য রেল স্টেশনে যায়। এ সময় আওয়ামী নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ বিএনপির নেতা–কর্মীদের ট্রেনে উঠিয়ে দেয়।
বিএনপি নেতাকর্মীরা যদি হামলা করতো তাহলে পুলিশ তাদের ট্রেনে উঠিয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ দিত না। এই ঘটনার পরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাপে পুলিশ বাধ্য হয়ে এই মামলা করেছে।
