গরিবের ডাক্তার বুলবুল হত্যায় ৫ ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪২ এএম

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ছুরিকাঘাতে চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল হত্যার ঘটনায় পাঁচ ছিনতাইকারীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের হোতা মো. রায়হান ওরফে সোহেল আপনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এসব তথ্য দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলো রাসেল হোসেন হাওলাদার, আরিয়ান খান হৃদয়, সোলায়মান ও রিপন।

সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিকিৎসক বুলবুল হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ওই পাঁচ ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। চার্জশিটে বলা হয়, ছিনতাইকারীরা চিকিৎসক বুলবুলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ১৫০০ টাকায় বিক্রি করে। পরে তা পাঁচ ছিনতাইকারী ভাগ করে নেয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, আহমেদ মাহী বুলবুল দন্ত চিকিৎসক ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। তিনি ঠিকাদারি কাজের জন্য নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশে গত ২৭ মার্চ ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসা থেকে বের হয়ে রিকশায় শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে রওনা হন। পশ্চিম কাজীপাড়ার নাভানা ফার্নিচার শোরুমের সামনে প্রধান সড়কের ওপর পৌঁছালে আসামি রিপন ও রাসেল রিকশাটির গতিরোধ করে কাছে যা যা আছে তা দিয়ে দিতে বলে চিকিৎসক বুলবুলকে। না দিলে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করার ভয় দেখায়। বুলবুল মোবাইল ফোন দিতে না চাওয়ায় রিপন তার ঊরুতে আঘাত করে জখম করে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বুলবুল গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান। আসামিরা আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল হত্যা মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৯৬ ধারায় চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি যেন নিশ্চিত হয় সেদিকে রাষ্ট্রপক্ষ নজর রাখবে। এই মামলার কোনো আসামিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’

চলতি বছরের ২৭ মার্চ ভোরে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করে। আহত অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় চিকিৎসক বুলবুলের স্ত্রী শাম্মী আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত