সিত্রাংয়ে বন্ধ লঞ্চ-ফেরি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩০ এএম

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে গতকাল সোমবার দেশের বিভিন্ন মহানগরী ও জেলা-উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। দিনভর শহরগুলোর রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখা যায়। শহরতলির দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেছে। বিভিন্ন নৌরুটে ফেরি-লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

মুন্সীগঞ্জে লঞ্চ চলাচল বন্ধ : মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌরুটে লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এছাড়া জেলার লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ থাকে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে ওই দুই নৌরুটে লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়াঘাটের বন্দর কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপ-পরিচালক  (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য।

মানিকগঞ্জেও বন্ধ লঞ্চ চলাচল শিবালয় উপজেলার পদ্মা উত্তাল থাকায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চাষ করা আগাম শীতকালীন সবজির বাগান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

গাজীপুরে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি  দিনভর প্রবল বর্ষণে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা, জয়দেবপুর শহর, ভোগড়া বাইপাস মোড়, কোনাবাড়ি-কাশিমপুর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকে। অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ও যাত্রী সংখ্যাও ছিল কম।

শহরতলির বাড়িয়া এলাকার কৃষক আবদুর রহমান জানান, রবিশস্যের বীজতলা বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিম, টমেটো, বেগুন, আলু, লাউ, পেঁপে, মরিচ, সরিষাসহ অন্যান্য ফসলেও মার খাবেন কৃষক।

আড়াইহাজারে ফেরি বন্ধ  নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে মেঘনার পানি বেড়ে উত্তাল ঢেউ শুরু হওয়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিশনন্দী-বাঞ্ছারামপুর নৌ-রুটের ফেরি। দিনভর বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন হাটবাজারে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উপজেলায় ৪টি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে জরুরি সেবা।

মাদারীপুর : গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে মাদারীপুর সদর, কালকিনি, রাজৈর, শিবচর ও ডাসারে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির খবরও পাওয়া গেছে। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েন খেটে খাওয়া মানুষজন। পৌর শহরসহ অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি আটকে থাকায় দুর্ভোগের মুখে পড়েন জরুরি কাজে বের হওয়া লোকজন।

মাগুরা : গত রবিবার রাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। গতকাল সোমবার সকালে ওই বৃষ্টি ভারী রূপ নেয় এবং শুরু হয় হালকা বাতাস। পরে সন্ধ্যায় বাড়তে থাকে বাতাসের গতি।

ময়মনসিংহ : একটানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। যানবাহন সংকটের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েন ছিন্নমূল মানুষ, পথচারী ও বিভিন্ন পেশার লোকজন। অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যান। দুপুরের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সন্ধ্যায় মুষলধারে পরিণত হয়।

রাজবাড়ী : দিনভর একটানা বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয় ঘনঘন লোডশেডিং। ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয় দমকা বাতাস। শীতকালীন সবজি ক্ষেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমন ধানের ফুল বাতাসের কারণে উড়ে গেলে ধানে চিটা পড়বে।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : বৃষ্টিতে মানুষের চলাচল কমে যায়। এতে বেশি সমস্যায় পড়েন খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষেরা। কাজ না পাওয়ায় তাদের পড়তে হয় বিপাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত