দীর্ঘদিন ক্যানসারের লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সাইমুম ইফতেখার (২৭)।
দীর্ঘদিন হাঁটু (বোন) ও ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
সাইমুম ইফতেখার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার রুস্তমপাড়া এলাকার মমতাজুল হকের ছেলে। সাইমুম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালিখি, অনুবাদ ও ছোটকাগজ সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বাবা মমতাজুল হক অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও মা কহিনুর বেগম গৃহিণী।
জানা যায়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকে ভর্তি হন সাইমুম ইফতেখার।
২০১৫ সালে প্রথম সাইমুমের এক পায়ে ক্যানসার ধরা পড়ে। স্নাতকের ফলাফলে প্রথম বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। প্রতি বছর কেমোথেরাপি ও চেক-আপের জন্য ভারতে যেতে হয় সাইমুমকে। কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে এতে ছেদ পড়ে। যার কারণে সাইমুমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
একপর্যায়ে তার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। পরে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে পরপর দুটি অপারেশন হয় তার। সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়লে সাইমুমকে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।
তার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. শহিদুল হক।
তিনি বলেন, সাইমুম একজন লড়াকু ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সাইমুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
আজ জোহরের নামাজের পর নগরীর টাইগার পাস এলাকার মামু ভাগিনা মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া মৌলভীর দোকান এলাকায় রুস্তমপাড়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
