প্রথম কোনো পাকিস্তানি ছবির ১০০ কোটির ক্লাবে পা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৩৩ পিএম

১০০ কোটি টাকার ক্লাবে যে ছবিগুলো রয়েছে সে তালিকায় 'দঙ্গল', 'পিকে', 'সঞ্জু'র মতো বলিউডের বহু ছবি রয়েছে। ভারতের বক্স অফিসের পাশাপাশি বিশ্বদরবারেও ছবিগুলো বহুল প্রশংসা পায়। কিন্তু পাকিস্তানের কাহিনি অন্যরকম।

২০২২ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত একটি পাকিস্তানি ছবিও উপার্জনের দিক দিয়ে সে দেশের মুদ্রায় ১০০ কোটি টাকার গণ্ডি পেরোতে পারেনি। অন্যদিকে ভারতে 'আরআরআর', 'বাহুবলি'র মতো বহু ছবি ১০০ কোটির গণ্ডি পেরোয়।

চলতি মাসেই এ অবস্থার পরিবর্তন হয়। ১০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রথম প্রবেশ করে পাকিস্তান, 'দ্য লিজেন্ড অব মাওলা জাট' ছবির মাধ্যমে। তা-ও আবার ছবি মুক্তি পাওয়ার ১০ দিনের মাথায় এ সাফল্য। 

চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় 'দ্য লিজেন্ড অব মাওলা জাট'। ছবিটি ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ক্লাসিক ঘরানার ছবি 'মাওলা জাট'-এর ওপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। এটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিলাল লাশারি। ২০১৩ সালেই পরিচালক এ ছবি প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন।

চিত্রনাট্যের কাজ শেষ হওয়ার ৩ বছর পর মুখ্যচরিত্র হিসাবে ফাওয়াদ খান এবং হামজা আলি আব্বাসি সই করেন। ছবিতে আরো অভিনয় করেন জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান।

'হামসাফার' ধারাবাহিকের পর ফাওয়াদ-মাহিরার জুটি বেশ জনপ্রিয় হয়। দর্শক তাদের জুটি হিসাবে দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে। এ ছবির মাধ্যমে দর্শকের সেই স্বাদও মিটেছে। ছবি মুক্তি পাওয়ার ৮ দিনের মধ্যেই ছবিটি ৮০ কোটি উপার্জন করে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন-সহ এই ছবি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মুক্তি পায়।

এতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা শীর্ষ ছবি ছিল 'জাওয়ানি ফির নেহি আনি ২'। ২০১৮ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। বক্স অফিস থেকে এই ছবিটি পাকিস্তানি মুদ্রায় মাত্র ৭০ কোটি টাকা উপার্জন করে।

১০০ কোটির ক্লাবে নাম লেখানোয় ছবির নির্মাতা-সহ অভিনেতারাও আপ্লুত। ছবির সঙ্গে যুক্ত প্রায় সকলেই এ উপলক্ষে বিশেষ পোস্টার নিজেদের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন।

ছবিতে কাজ করার উপলব্ধি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ফাওয়াদ খান জানান, ছবিটি পাঞ্জাবি ভাষায় বানানোর ফলে শুরুর দিকে বেশ চিন্তায় পড়ে‌ছিলেন তিনি। কিন্তু সকলে সাহায্য করেছিলেন বলে শুটিংয়ের সময় কোনো অসুবিধা হয়নি। এই চরিত্রে অভিনয় করার সময় কোনো মেকআপের দরকার হতো না বলে জানান ফাওয়াদ। অধিকাংশ সময় ধুলো-কাদার মধ্যেই শুটিং করতে হতো তাকে। তাই মেকআপের পেছনে বেশি সময় খরচ হতো না বরং অন্য সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জাটের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য যে ধরনের শারীরিক গঠন থাকা প্রয়োজন, আমার তা ছিল না। জিমে গিয়ে অনেকটা সময় কাটাতে হতো আমায়। অভিনেতা আরো জানান, এত কঠিন পদ্ধতিতে শরীরচর্চা করার অভ্যাস ছিল না ফাওয়াদের। তাই শরীরের ওপর চাপ পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল অভিনেতাকে। ফাওয়াদ বলেন, 'শরীরের ক্লান্তি এবং দুশ্চিন্তার কারণে আমার শরীর ভেঙে পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসা হওয়ার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছি।' সূত্র : বলিউড হাঙ্গামা, ডন, দ্য গার্ডিয়ান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত