ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলাটি পুনতদন্তের দাবিতে ফের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজন ও আওয়ামী লীগ নেতারা।
শনিবার সকালে সোনাগাজী উপজেলা শহরের জিরো পয়েন্ট দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচী পালিত হয়।
দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুল আরেফিন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিন গনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর নবী লিটন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব, পৌর কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন নয়ন, সোনাগাজী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহ জাহান, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের ভাই নুর হোসেন, আবদুল কাদেরের বাবা আবুল কাশেম, জাবেদ হোসেনের বাবা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্যাহ, কামরুন নাহার মনির মা নুর নাহার, উম্মে সুলতানা পপির মা হোসনে আরা বেগম, আফসার উদ্দিনের স্ত্রী সুরাইয়া হোসেন, ইফতেখার হোসেনের মা হাজেরা খাতুন, মো. শাকিলের বাবা রুহুল আমিন, মাকসুদ আলমের ছেলে মো. বিজয়।
বক্তারা বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ন্যায়বিচার করতে বললেও পিবিআই স্থানীয় রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলমসহ অনেক নিরাপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসির আসামি বানিয়েছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর একই দাবিতে সোনাগাজীতে ও ১৬ অক্টোবর ফেনীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির পরিবার নিজেদের দায়মুক্ত রাখতে নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা ও তাদের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পুলিশের আইজিপি বরাবরে লিখিত আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহর যৌন নিপিড়নের শিকার হন রাফি। ওই ঘটনায় তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে সে মৃত্যুবরণ করে। একই বছরের ২৪ অক্টোবর মামলার অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে একলাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির তৎকালীন সহসভাপতি রুহুল আমিন, মাদ্রাসার শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম , কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, নুরউদ্দিন , সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম। আসামিদের আপিলের প্রেক্ষিতে মামলাটি হাইকোর্টে আপিল শুনানীর জন্য রয়েছে।
