ফটিকছড়ির দুর্গম শোভনছড়ি

মুষ্টি চাল ও প্রবাসী অনুদানে নির্মাণ হলো বিদ্যালয়

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২, ১২:১৫ এএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নের একটি অবহেলিত পাহাড়ি জনপদ শোভনছড়ি গ্রাম। এই গ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি মিলে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতি। গ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিম্ন আয়ের কারণে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেকটা পিছিয়ে। তার ওপর আশপাশে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় গ্রামের শত শত শিক্ষার্থীকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চুকতে হয় মাধ্যমিকের পাঠ। কিন্তু একদল স্বপ্নবাজ তরুণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেখানে নির্মিত হয়েছে তাদের স্বপ্নের শোভনছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়।

বিদ্যালয় নির্মাণের ব্যয় জুগিয়েছে স্থানীয়দের ঘরে ঘরে জমানো মুষ্টি চাল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা শোভনছড়ি গ্রামের প্রবাসীরা। ‘শোভনছড়ি প্রবাসী রেমিট্যান্স ফাইটার’ হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করে। সেই টাকায় বিদ্যালয়ের জন্য ৯৬ শতক জায়গা নেওয়া হয়।

২০১৯-এ দেখা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় ২০২২-এ। এখন নিজস্ব জমিতে টিনের চালায় চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। গতকাল ২৯ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়ব।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি নুরুল আলম নুরু বলেন, ‘মুষ্টি চাল ও প্রবাসীদের অনুদানের মাধ্যমে টিনের চালায় ২টি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ নিয়ে শোভনছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। আরও অনেক কাজ বাকি।’

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য মাহবুবুল আলম বলেন, ‘শোভনছড়ি একটি অবহেলিত পাহাড়ি জনপদ। এখানে স্কুল মানে অপার সম্ভাবনা। বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও অবকাঠামোসহ সামগ্রিক উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি দরকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত