ভাঙ্গুড়ায় শিক্ষক সংকটে শিক্ষাবঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২, ০২:০৬ পিএম

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২৯টি। অবসর ও মৃত্যুজনিত কারণে এবং সরাসরি নিয়োগ না থাকায় এতো পদ শূন্য হয়ে রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশপাশি পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যবহত হচ্ছে। 

উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই ২৩টিতে। আর সহকারী শিক্ষকের পদশূন্য ২৯টি। এসব বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। 

শিক্ষক সংকট নিয়ে ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি অনেক ক্লাস নিতে হয়। আবার প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এতে দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়ে ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারেন না। সব মিলিয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীরা। 

উপজেলার পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান সবুজ জানান, আমার বিদ্যালয়ে একজন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি আমাকেও পুরোদমে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। চার জন শিক্ষক মিলে পাঠদান করাতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা।
 
করতকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কানিজ ওয়ারেসি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া বিদ্যালয়ে একজন সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন আমাকে ৫টি ক্লাস নিতে হয়। বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক নেই। এতে ঠিকমতো না হয় দাপ্তরিক কাজ, না হয় পাঠদান।

ভাঙ্গুড়া পৌরসভার স্বনামধন্য মডেল ও শরৎনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন ও হাবিবা খন্দকার ইভা বলেন, আমাদের স্কুলে প্রায় ৬ শতাধিক ছাত্র ছাত্রী রয়েছে সে তুলনায় শিক্ষক ও অবকাঠামো নেই, এক্ষেত্রে পদসৃষ্টি করে শিক্ষক সংকট দূর করাসহ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ দরকার। 

কৈডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকরোজা খাতুন বলেন, আমার বিদ্যালয়েও পদ সৃষ্টি করে শিক্ষক দরকার, তাছাড়া রেল ও পাকা সড়কের পাশে স্কুল হওয়ায় স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল দরকার, মাঝে মাঝেই শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হয়। ইতিপূর্বে দুই জন মারা গেছে। 

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরাত আলী বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিগগিরই শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলায় ২৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ২৯টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি চিঠি দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি নভেম্বরে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন এই সংকট কেটে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত