নানা আয়োজনে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালন

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৫৯ পিএম

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের ৭৪তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে। 

শনিবার (১২ নভেম্বর) রাত ১২টা ১ মিনিটে নুহাশপল্লীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে জন্মদিনের আয়োজন শুরু হয়। রাতে নুহাশপল্লীতে এক হাজার ৭৪টি মোমবাতি প্রজ্জলন করা হয়। 

রোববার খুব ভোরে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার দুই সন্তান নিশাত ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। সকালে দুই সন্তান, নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, অসংখ্য হুমায়ুনভক্তদের নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে লেখকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে হোয়াইট হাউজের সামনে কেক কাটা হয়। 

হুমায়ূন আহমেদ জীবিত থাকার সময় যেভাবে জন্মদিন পালন করতেন তার মৃত্যুর পর ঠিক সেভাবেই প্রতিবছর প্রিয় লেখকের জন্মদিন পালন করা হয় বলে জানালেন নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল।
 
গাজীপুর সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার ভেতরে পিরুজালী এলাকায় অবস্থিত নুহাশপল্লী। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ নানা বয়সী ভক্তরা। কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তারা হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতে সাজানো নুহাশপল্লীর বিভিন্ন স্থাপনা এবং নান্দনিক শিল্পকর্ম ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও নুহাশপল্লীতে আসেন তাদের প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের সমাধিস্থলে। তারা ঘুরে দেখেন নুহাশপল্লী পুরো এলাকা।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, হুমায়ূন আহমেদের জম্মবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে প্রতিবারের মতোই আয়োজন রয়েছে। রাতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে। 

মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা, চট্রগ্রামসহ বড় বড় শহরের অনেক ধনী পরিবারের ছেলে-মেয়েরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া করে। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার কারণে বাচ্চাদের মধ্যে বাংলার একটি ভয় ঢুকে যায়। বিশেষ করে করোনা মহামারির কারণে শিশুরা অনলাইনে ক্লাস করার কারণে অনেক শিশু মোবাইলের দিকে ঝুঁকে গেছে। বাধ্য হয়ে বাবা-মায়েরাই শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছে। শিশুরা দিন দিন মোবাইলে আসক্তি হয়ে যাচ্ছে। এখন ইচ্ছে করলেও তাদের সেখান থেকে ফিরানো সম্ভব হচ্ছে না। 

মির্জাপুর এলাকার একটি স্কুল থেকে আসা শিক্ষার্থী তাসলিমা আক্তার বলেন, আমরা হুমায়ুন আহমেদের অনেক নাটক সিনেমা দেখেছি। তার লেখা বইও পড়েছি। তাকে কখনো সচক্ষে দেখিনি। তাই তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এবং নুহাশপল্লী ঘুরে দেখতে এসেছি। 

উল্লেখ্য, সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় তাকে সমাহিত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত