পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মনির হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পঞ্চগড় বাজার হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মনিরের বাড়ি পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসী হঠাৎপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত গহের আলীর ছেলে।
এর আগে রাত ১২টা দশ মিনিটের দিকে স্কুলছাত্রীর মা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে পাঁচ যুবককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- খতিবর রহমানের ছেলে সিয়াম শাহরিয়ার উচ্ছাস (১৭), মৃত গহের আলীর ছেলে মো. মনির হোসেন (৩০), মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. জিন্নাহ (২৫), মো. বাবুর ছেলে মো. বিপুল (২৫), মোছা. মিনা বেগমের ছেলে মো. লিটন। তাদের বাড়ি পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসী এলাকায়।
মামলার এজাহার ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বেলা ১২টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী তার বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ি থেকে বের হয়ে জালাসী এলাকার সিয়াম শাহরিয়ার উচ্ছাস নামে এক তরুণের বাড়ি সামনে পৌঁছালেই উচ্ছাস তাকে বাড়ির ভেতরে ডাকতে থাকেন । সরল মনে স্কুলছাত্রী উচ্ছ্বাসের বাড়িতে প্রবেশ করেন।
এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় উচ্ছ্বাস স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
এদিকে উচ্ছাসের বাড়িতে মেয়ে আসার খবর পেয়ে উচ্ছাসের পরিচিত মনির, জিন্নাহ, বিপুল এবং লিটন উচ্ছাসের বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে উচ্ছাসকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে মনির হোসেন জোড়পূর্বক পাশের ঘরে আটকে রাখেন।
পরে মনির ও তার সহযোগীরা মিলে স্কুলছাত্রীকে বিবস্ত্র করেন। সেই সাথে মনির হোসেন তার মোবাইল ফোন দিয়ে ওই স্কুলছাত্রীর বিবস্ত্র ছবি তোলে।
পরে মনির ও জিন্নাহ মোবাইলে তোলা ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ সময় স্কুলছাত্রী বলেন যে সে একজন ছাত্রী এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই।
এদিকে পাশের ঘর থেকে উচ্ছাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উচ্ছাস এসে মনির ও জিন্নাহকে ৯ হাজার টাকা দিয়ে মনিরের মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়।
এরপর মনিরসহ তার সহযোগীরা বাকি টাকা না দিলে ফেসবুকে ওই ছাত্রীর নগ্ন ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে উচ্ছাসের বাড়ি থেকে চলে যায়।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা জানান, এই ঘটনায় আসামি মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আজ আদালতে তোলা হবে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
