জামায়াতই আসছে প্রমাণ হোক, তারপর সিদ্ধান্ত: ইসি

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৩৩ পিএম

জামায়াত সংশ্লিষ্ট কেউ অন্য নামে ইসির নিবন্ধন চেয়ে থাকলে, তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। 

তিনি বলেন, আদালতের আদেশে জামায়াতের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমরা পাঁচ কমিশনার বসে সিদ্ধান্ত নেব।

বৃহস্পতিবার জামায়াত সংশ্লিষ্ট কোনো দলকে নিবন্ধন না দেওয়ার দাবি জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ৭১ নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়ার পর তিনি এসব মন্তব্য করেন। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় সংগঠনটি ।

সংগঠনের সভাপতি আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি তারা নিজেদের নিবন্ধনের আবেদন করেছে তাতে আমরা শঙ্কিত। আমরা প্রজন্ম ৭১ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একটা স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা মূলত যেটা বলতে চেয়েছি শহীদ সন্তান ও পরিবার থেকে আমাদের একটা ইমোশনাল আপিল আছে। যে আমরা চাই যাদের কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত আছে জামায়েত ইসলামীর সঙ্গে এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শের সঙ্গে সেরকম কোনো ব্যক্তি যদি গঠন করেন এবং নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন তাদের যাতে নিবন্ধন না দেওয়া হয়।

শহীদ সন্তান নুজহাত চৌধুরী বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চায় নাই, তারা যদি সেই অপরাজনীতি থেকে সরে না আসে, তারা বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না। তারা কি ক্ষমা চেয়েছেন ত্রিশ লাখ শহীদের কাছে? স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সেটা আপহোল্ড করবে। নিবন্ধন প্রত্যাশী দলের ভেতর আদর্শিকভাবে যদি মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কেউ থাকে তাদের যাতে নিবন্ধন না দেওয়া হয়।

স্মারকলিপি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, প্রজন্ম ৭১ স্মারকলিপি দিয়ে গেছে। সেখানে কী আছে সে বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানা নেই। আগে দেখব, জানব, তারপর বলতে পারব। আমরা এটুকু জানি, আইনে নির্দিষ্ট শর্ত আছে। এই শর্তগুলো পূরণ করলেই কেবল কোনো দল নিবন্ধন পায়। জামায়াত অন্য আদলে আসছে কি না, তা আগাম বলা ঠিক হবে না। কমিশন মিটিংয়ে ফরমালি না এলে বলা যাবে না। জামায়াতই আসছে এগুলো প্রমাণ হোক, তারপর আমরা পাঁচ কমিশনার বসে সিদ্ধান্ত নেব।

নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করলে জামায়াত সংশ্লিষ্টদের নিবন্ধন পেতে বাধা আছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত আদালতের আদেশ অনুযায়ী নিষিদ্ধ পার্টি। নিষিদ্ধ মানে নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু নিবন্ধন নেই, নির্বাচনে তারা আসতে পারবে না। এখন নতুন করে তারা কীভাবে আসছে, না আসতে চাইছে এগুলো খতিয়ে না দেখে বলা যাবে না। আইনের মধ্যে যদি থাকে, আর যদি না থাকে তখন কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে আগাম মন্তব্য করার জায়গা নেই।

নিবন্ধনের জন্য যারা আবেদন করেছে আগামী বছর জুনের মধ্যে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিগগিরেই যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন,আ মরা কেবল একটি দল নয়, ৯৩টি পার্টির ব্যাপারে যাচাই-বাছাই...যতখানি আইনি কাঠামো আছে পুরোটাই দেখব।গঠনতন্ত্র যাচাই করেই নিবন্ধন দেওয়া হবে। একজন এসে দাঁড়াল যে, আমরা একটা দল তাই কী হবে নাকি? যাচাই-বাছাই করেই দেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত