পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় জঙ্গি ছিনতাই নাটক কিনা প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জঙ্গি ধরার নাম করে ১০ ডিসেম্বরের আগে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে চিরুনি অভিযান হবে কিনা, নিপীড়ন নির্যাতনের দিকে নিবে কিনা সেই সব আলামত এ সমস্ত ঘটনাগুলোর মধ্যদিয়ে ফুটে উঠেছে।
সোমবার (২১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেন, খেলা হবে, এটা কোনো রাজনীতির ভাষা হতে পারে না। এটা জাতীয় পর্যায়ের কোনো নেতার কথাও হতে পারে না। এটা পাড়ার গুন্ডা-পান্ডার কথা। একটা দলের সাধারণ সম্পাদক একটি গভীর জায়গা থেকে এ কথা বলেন। তার আলামত নানা দিক থেকে নানাভাবে ফুটে উঠছে। এ খেলা মরণ খেলা,এ খেলা ভয়ঙ্কর চক্রান্তের খেলা। সেই খেলার কথাই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বলছেন।
তিনি বলেন, রোববার আদালত পাড়ার ঘটনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। একজন জঙ্গির হাতে কড়া পায়ে বেরি পড়া অবস্থায় পুলিশি বেস্টনির মধ্য দিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেলেন - এটাকে মানুষ ভিন্নভাবে দেখছে, নাটক মনে করছে। এটা ওবায়দুল কাদেরদের খেলার অংশ কিনা? জঙ্গি ধরার নাম করে ১০ ডিসেম্বরের আগে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে চিরুনি অভিযান হবে কিনা, নিপীড়ন নির্যাতনের দিকে নিবে কিনা সেই সব আলামতগুলো এ ঘটনাগুলোর মধ্যদিয়ে ফুটে উঠেছে। এসব নাটক বা তামাশা কিনা সরকারের ঘনিষ্টদের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে প্রমাণও পাচ্ছি।
সম্প্রতি, পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল ইসলাম তার পেশাসহ জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে একটি বই লিখেছেন। সেখানে একটি জায়গায় তিনি বলেছেন, শ্যামলীতে আমাদের সঙ্গে জঙ্গিদের যুদ্ধ হলো, জঙ্গি দমন করার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম, প্রধানমন্ত্রী বললেন, এতো তাড়াতাড়ি নাটক শেষ করার কী দরকার ছিল। সুতারং রোববার ঢাকা জেলা আদালতের যে ঘটনা সরকারের লোকজনই তো বলছে-এটা তামাশা। এটা ওবায়দুল কাদেরদের খেলার অংশ। এই খেলা যে কত বিপজ্জনক, কত ভয়ঙ্কর ও কত নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এমন- একটা লাশ দাফন করতে না করতেই আরেকট লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এই রকম একটি দুঃসময়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানের জন্মদিন। এই দিনটি আড়ম্বরপূর্ণ, জাঁকজমকপূর্ণ করা যাবে না, কেক কাটা যাবে না-এই নির্দেশনা তিনি আমাদের সবাইকে দিয়েছেন। এটাই তো একজন দেশনেতার দৃষ্টি সীমা।
তিনি বলেন, এই ভয়াল সময়ের মধ্যে আনন্দ প্রকাশ করা যায় না। তার মা গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দি। ভালো ও জনপ্রিয় মানুষগুলো নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছেন। দেশের জনপ্রিয় ও ভালো মানুষগুলো কারাগারে, আর গুন্ডা পান্ডা, চোর, ডাকাত, বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীকে হত্যা করে -এরা বাইরে দাপট খাটাচ্ছে। গোটা সমাজ ও রাষ্ট্র শঙ্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকায় গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
