শেরপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ছয় থেকে সাত পুলিশসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়া হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা দিকে শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের বাসভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি রঘুনাথবাজার কালিমন্দির মোড়ে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কয়েক নেতাকর্মীকে আটক করে।
এরপর পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলে শহরের রঘুনাথ বাজার ও গৃদানারায়ণপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাস্তায় যানবাহন চলাচল ও দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি নেতকার্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার সেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিকে-সেদিক ছুটতে থাকে। পুলিশ ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
লাঠিপেটা ও টিয়ার সেল, ইটপাটকেলের আঘাতে এবং দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে পথচারী, বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত আহত হন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল জানান, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে অহেতুক লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালিয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে আটক করেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, নাশকতার পরিকল্পনা করে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিএনপি নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০১ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ২২ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ৬/৭ পুলিশ আহত হয়েছেন। আহতরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১৬ জনকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
