দীর্ঘ বিরতির পর দেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের গল্প দেখা যাবে ছোটপর্দায়। বিটিভিতে আর একাধিক গল্প ধারাবাহিকের ফ্রেমে দারুণ সাড়া ফেলে। আবারও বিটিভিতেই আসছে তার উপন্যাস অবলম্বনে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘নায়কের নাম কবি’। আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকটি প্রচার শুরু হবে। নির্মাণ করেছেন অভিনেতা নাদের চৌধুরী। ২৬ পর্বের ধারাবাহিকটির চিত্রনাট্যও লিখেছেন ইমদাদুল হক মিলন। প্রতি সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার বিটিভিতে রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে এটি। এতে অভিনয় করেছেন আবদুন নূর সজল, জাকিয়া বারী মম, ঝুনা চৌধুরী, সাবেরী আলম, শিরিন আলম, আবদুল্লাহ রানা, রেবেকা রউফসহ প্রায় ৭০ জন অভিনয়শিল্পী। পরিচালনার পাশাপাশি নাদের চৌধুরী এসআই হায়দার নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম ইমদাদুল হক মিলনের গল্প নিয়ে একটি কাজ করব। অবশেষে কাজটি করতে পেরে আনন্দিত।’ কাজটি করার পেছনের কারণ প্রসঙ্গে নাদের চৌধুরী বলেন, ‘এখন আমাদের দেশে যে ধরনের নাটক হচ্ছে, তার মধ্যে সব কাজ যে ভালো হচ্ছে না তা বলছি না। কিন্তু আমাদের দর্শক টিভিতে যে ধরনের নাটক দেখে অভ্যস্ত, যে নাটকগুলোর জন্য আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়েছে, তেমন নাটক এখন খুব একটা দেখা যায় না। আগের নাটকগুলোতে শক্তিশালী একটি গল্প থাকত। এখনকার নাটকের বেশির ভাগেই আমি কোনো গল্পই খুঁজে পাই না। শুধু তা-ই নয়, নাটক এখন নিছক বিনোদনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আগের নাটকে বিনোদনের সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, ভাষার পরিচয় পাওয়া যেত। তাই এমন একটি কাজ করতে চাচ্ছিলাম যাতে এই সবগুলো উপাদান থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সৃষ্টি নিয়ে কাজ করলে অনেকটাই নির্ভার থাকা যায়। কারণ তাদের লেখায় বরাবরই উঠে আসে বাংলাদেশের আসল পরিচয়, যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা খুবই জরুরি। যেমন এই নাটকে একটি ফানি দৃশ্যের কথা বলি, যার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাচর্চার দিকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কবি চরিত্রটি তার তুই ভাতিজিকে বলছে, আমার কাছে আসার হেতু কী? ইংরেজি মাধ্যমে পড়া দুই ভাতিজি জানেই না হেতু শব্দের অর্থ কী? তখন কবি বলে, এখন থেকে বাংলা ভাষাটাও মনোযোগ দিয়ে শিখতে হবে।’
ইমদাদুল হক মিলনের গল্প ও উপন্যাসে ২০টিরও বেশি নাটক বানিয়েছেন নাদের চৌধুরী। এই কথাসাহিত্যিকের চিত্রনাট্যে নির্মাণ করেছেন ‘লালচর’ ও ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ নামে দুই ছবি। ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ পাঁচটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। সরকারি অনুদানের জন্য নাদের চৌধুরী জমা দিয়েছেন ইমদাদুল হক মিলনের লেখা ‘সেই প্রিয় মুখ’ ছবির চিত্রনাট্য।
সজল, মমদের এ সময়ে ধারাবাহিক নাটকে খুব একটা দেখা যায় না। নাদের চৌধুরী বলেন, ‘ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাসের কথা শুনে অভিনয়শিল্পীরা আরও বেশি আগ্রহী হয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদ বা ইমদাদুল হক মিলনের মতো ঔপন্যাসিকদের একটা ছোট চরিত্রেও অভিনয়শিল্পীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে কাজ করেন। ছোট্ট চরিত্রেরও গুরুত্ব থাকে। অহেতুক কোনো চরিত্রের অবতারণা হয় না। এখানেও প্রতিটি চরিত্রেই অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সবাই অনেক পরিশ্রম করে কাজটা করেছেন।’