শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিয়ে ভারতের কর্ণাটক প্রদেশে জোরদার বিতর্ক চলেছে প্রায় এক বছর ধরে। মামলাটি আপাতত ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এরই মধ্যে এবার হিজাব বিতর্কের আঁচ এসে লাগল পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার এক সরকারি স্কুলে। হাওড়ার ধুলাগড়ি আদর্শ বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটে।
মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পড়ে স্কুলে প্রবেশ করা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নামাবলী জড়িয়ে স্কুলে যায় দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী। তাদের দাবি ছিল, হিজাব পরে স্কুলে আসার অনুমতি দেওয়া হলে নামাবলী জড়িয়েও স্কুলে ঢোকার অনুমতি দিতে হবে।
মঙ্গলবার দ্বাদশ শ্রেণির পাঁচ জন ছাত্র স্কুলে নামাবলী জড়িয়ে আসে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায় ওই স্কুলের দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির কিছু ছাত্রী। এদিকে ছাত্রদের স্কুল কর্তৃপক্ষ নামাবলী খুলে স্কুলে ঢুকতে বলে। এরপরই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে স্কুলে। দুপক্ষের তর্কাতর্কি বাঁধে এরপর। তা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। স্কুলে ভাঙচুর চলে বলেও অভিযোগ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলে যায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ স্কুলের ভেতর ঢোকেনি। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে বাধ্য হয়ে কয়েকজন আধিকারিক স্কুলে ঢুকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এদিকে এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার একাদশ শ্রেণির টেস্টের পরীক্ষাও বাতিল করার নির্দেশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। শনিবার এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, পুলিশ, স্থানীয় ব্লক প্রশাসন এবং স্কুলের জেলা পরিদর্শক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘প্রি-বোর্ড পরীক্ষা চলছে স্কুলে। এই আবহে সোমবার কিছু ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে গিয়েছিল। তাদের দেখে ছাত্রদের আরেকটি দল নামাবলী পরার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্কুলের ড্রেস কোড অনুসরণ করতে বলে উত্তেজনা প্রশমিত করে।’
