আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলবে। মামলার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে শহিদুল আলমের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) রবিবার খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ।
২০১৮ সালের ৩ ও ৪ আগস্ট নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ফেসবুক লাইভে আসেন শহিদুল আলম। সে সময় তার দেওয়া বক্তব্য ও একটি বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে ৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলার পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাবাদ করা হয়। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর তাকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। এরপর মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। ওই বছরের ১৪ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে মামলার কার্যক্রমের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়। রুলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার এই মামলাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সংবিধানের ৩১ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চায় হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এ আদেশে বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করে। ওই বছরের ১৯ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে পুলিশের করা এই মামলার কার্যক্রমের বৈধতা প্রশ্নে দেওয়া রুল খারিজ করে তদন্তকাজের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে রায় দেয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন শহিদুল আলম।
এর ধারাবাহিকতায় রোববার এ আদেশ আসে। আদালতে শহীদুল আলমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
