জনপ্রিয় ভিডিও-শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর পরিচালক ক্রিস্টোফার রে। তার আশঙ্কা, গুপ্তচরবৃত্তি চালাতে এই অ্যাপটি ব্যবহার করা হতে পারে। গতকাল রবিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে যান এফবিআই-এর পরিচালক ক্রিস্টোফার রে। সেখানে তিনি বলেন, ‘এসব জিনিস (টিকটক) এমন একটি সরকারের হাতে রয়েছে যারা আমাদের মূল্যবোধকে ধারণ করে না। ওই দেশটির একটি মিশন রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোত্তম স্বার্থের সঙ্গে বিরাট বিরোধপূর্ণ। আর এ কারণে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’ গত মাসেও এফবিআই পরিচালক একই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, চীন সরকার ব্যবহারকারীদের ডিভাইসগুলোকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে ভিডিও-শেয়ারিং এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের ক্রিস্টোফার রে বলেন, ‘এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, চীন সরকার লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করতে টিকটক ব্যবহার করতে পারে, যা প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।’
টিকটক চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের ভিডিও মেকিং এবং শেয়ারিং অ্যাপ। টাইম ম্যাগাজিন বলছে, চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী দেশে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে চাইলে চীনা সরকারকে তাদের তথ্য সরবরাহ করতে হবে। ছয় বছর আগে টিকটক চালু হওয়ার পর থেকে অ্যাপটির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বরাবরই উদ্বেগ রয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অনলাইন কার্যক্রমের ইতিহাস এবং পছন্দ বা অপছন্দের বিভিন্ন বিষয় চলে যায় টিকটকের দখলে, যা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হতে পারে। সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের ফোনে টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্য। অথচ ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক ডাউনলোড করা অ্যাপ ছিল টিকটক। তবে চীনা এই সংস্থাটির দাবি, কখনোই চীন সরকার আমেরিকান ব্যবহারকারীদের তথ্য তাদের কাছে চায়নি।
