একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে। শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করা হবে। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ধানম-িস্থ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থার সমন্বয়ক এম সানাউল হক। এদিন মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮৭তম তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
২০০১ সালের অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ওসমান ফারুক। পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে তাকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়। বর্তমানে তিনি বিদেশে রয়েছেন।
২০১৬ সালের মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় ওসমান ফারুকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তিনি (ওসমান ফারুক) বিশ^বিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচার ইকোনমি অনুষদে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সানাউল হক বলেন, ‘ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে। তারিখটা বলছি না। আশা করি শিগগির প্রতিবেদন দিতে পারব।’ প্রতিবেদন দেওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে টাঙ্গাইলের দুই আসামি রাজাকার কমান্ডার কোহিনূর ওরফে মনিরুজ্জামান কহিনূর (৭০) ও রাজাকার আলমগীর ওরফে শা. আ. ম. আলমগীর তালুকদারের (৬৭) বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে বলে জানানো হয়। দুজনের বিরুদ্ধে একাত্তরে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গত বছরের ৩১ মে দুজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। ওই সময় থেকে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়ে গত ৭ ডিসেম্বর তা শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান। প্রতিবেদনের নথিতে সাক্ষী করা হয়েছে ২৪ জনকে। বর্তমানে দুই আসামি কারাগারে আছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার কহিনূর মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৭৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কহিনূর পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন। এরপর কারামুক্ত হয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব নেন। ২০০২ সালে দেশে এসে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। এ ছাড়া আসামি আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।
