সিরিজ জয়ের কঠিন কাজটা হোম অব ক্রিকেট শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই সেরে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ সাগরিকায় শেষ ওয়ানডেতে লিটন দাসের দল মাঠে নামবে প্রথমবারের মতো ভারতকে কোনো ফরম্যাটে হোয়াইটওয়াশ করার আশায়। অন্যদিকে চোটজর্জর ভারতের জন্য একাদশ দাঁড় করানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শর্মা আঙুলের চোট নিয়ে ফিরে গেছেন দেশে, আজ নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক লোকেশ রাহুল।
দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে অজেয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ৪৩টা ওয়ানডে খেলে ৩৩টাতেই জিতেছে। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে চলমান ভারত সিরিজ নিয়ে ১৪টা হোম সিরিজের ১৩টাতেই জিতেছে বাংলাদেশ, জিততে পারেনি কেবল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনে এই বিশ্বাসটা দৃঢ়ভাবেই গেঁথে গেছে যে দেশের মাটিতে তাদের কেউ সহজে হারাতে পারবে না! অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর বাংলাদেশ সফর, অনেক ক্রিকেটারই টানা খেলায় পেয়েছেন চোট। কেউ কেউ আবার বিশ্রামে। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়ার মতো ক্রিকেটাররা নেই। এবার রোহিতেরও বিদায়। গত ম্যাচে শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন বিরাট কোহলি, দুই ম্যাচ ব্যাট হাতে তার অবদান মাত্র ১৪ রান!! ধাওয়ানের সঙ্গে দেখা যেতে পার ঈশান কিষানকে। এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানকেই টিম ম্যানেজমেন্ট পরখ করে দেখতে পারে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে। শেষ ওয়ানডের দলে নেওয়া হয়েছে কুলদীপ যাদবকে, তাকে হয়তো দেখা যাবে একাদশে দীপক চাহারের জায়গায়।
বাংলাদেশ দুটো ম্যাচে জিতলেও দুটো ম্যাচই শেষ হয়েছে চরম নাটকীয়তায়, দুটো ম্যাচের ফলই পাল্টে যাওয়ার বড় সুযোগ ছিল। তবে জয় আর ভারতীয় দলের মাঝে দুই ম্যাচেই দাঁড়িয়ে গেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বিশ্বক্রিকেটে দেখিয়েছেন নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য, দুটো ম্যাচেই চাপের মুখে ব্যাটিং করেছেন। ইনিংসের গোড়াপত্তনে দুই ম্যাচে দুটো জুটি খেলালেও একটা ম্যাচেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। আফিফ হোসেন, সাকিব আল হাসানদের ব্যাট থেকে একটা বড় ইনিংস পাওনা হয়ে আছে, অধিনায়ক লিটন দাসের ব্যাটে বড় রানের চাহিদা।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মিরপুরের মতো রহস্য নেই। এখানে রান ওঠে ভালোই, কারণ বল সুন্দর করে ব্যাটে আসে আর স্পিনারদের জন্য উইকেটে কিছু থাকে না। সেই সঙ্গে সাগরপাড়ের সাগরিকায় শিশির এবং সমুদ্র থেকে উড়ে আসা হাওয়া, সব মিলিয়ে পরে ব্যাট করাটাই হতে পারে সহজ। যে কারণে টসটা হয়ে উঠবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত দুটো টসই জিতেছেন লিটন, আজও ভাগ্য পাশে থাকলে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ।
সিরিজটা ওয়ানডে সুপার লিগের অংশ না হলেও ভারতকে দেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের সূবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে না বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ এসে বলেই গেছেন, জিতলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটাও প্রেরণা জোগাচ্ছে বাংলাদেশকে।
মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শেষবেলায় রোহিত শর্মার দুটো ক্যাচ ফেলেছে বাংলাদেশ, আরও আলাদা করে বললে এনামুল হক আর ইবাদত হোসেন। দলের ফিল্ডিং কোচ শেন ম্যাকডারমট বললেন, চাপের মুখে এটা হতেই পারে ‘আমরা চাপের মুখে দুটো ক্যাচ ছেড়েছি, তবে ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ধরা ছাড়াও আরও অনেক কিছুই আছে। আমরা বৃত্তের ভেতর দল হয়ে ফিল্ডিং করে যে চাপটা প্রয়োগ করেছি, ভালো গ্রাউন্ড ফিল্ডিং করেছি... এ সবই ছিল উঁচু মানের।’
টপ অর্ডারের রান না পাওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দেওযার জন্য যদিও ফিল্ডিং কোচ সঠিক ব্যক্তি নন, তবে এই অস্ট্রেলিয়ানও আশা করছেন চট্টগ্রামে ব্যাটসম্যানরা ভালো করবেন, ‘এখানের উইকেট ভালো, ভালো শট খেললে রান পাওয়া যাবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শীর্ষ পাঁচের একজনকে ৪০ ওভার পর্যন্ত উইকেটে রাখা।’ সেই সঙ্গে মিরাজেরও প্রশংসা করলেন ম্যাকডারমট, ‘তোমাদের ৮ নম্বর ব্যাটসম্যানকে দেখ। সে কী আত্মবিশ্বাস নিয়েই না খেলছে। আমরা এমন একটা সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই যেখানে শুধু ৮ নম্বর ব্যাটসম্যানই নয়, ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানও ম্যাচ জেতানোর সাহস করবে।’
ম্যাকডারমট মেনে নিলেন রোহিত শর্মাকে ছাড়া ভারতের ব্যাটিংটা একটু দুর্বল; তবে বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ানদের নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপটা শক্তিশালী। ভালো পিচে তাদের বিপক্ষে সঠিক জায়গায় বল না করলে ভুলের চড়া মাশুলই দিতে হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিচারে বাংলাদেশই এগিয়ে। ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করার এর চেয়ে ভালো সুযোগ কমই আসবে বাংলাদেশের। অন্যদিকে ভারতের লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়িয়ে টেস্ট সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া, জানালেন সংবাদ সম্মেলনে আসা ওয়াশিংটন সুন্দর ‘সত্যি বলতে বাংলাদেশ খুব ভালো দল। বিশেষ করে ঘরের মাঠে। রেকর্ডও তাই বলে। গত কয়েক বছরে তারা শুধু একটি সিরিজ হেরেছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। যে দলের বিপক্ষেই খেলেছে, ঘরের মাঠে তারা খুবই সফল। এখানে আসার আগেই আমরা জানতাম তাদের দিক থেকে কী হতে পারে। আমরা জিততে চাই। আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে চাই। কিছু ব্যাপার আমাদের করতে হবে। প্রসেসে মনোযোগ দেব। এবং ম্যাচটা জিতে ওয়ানডে সিরিজটা চূড়ায় থেকে শেষ করতে চাই’ জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
