মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যতিব্যস্ত রেখে দিগন্ত ছোঁয়া লাফ, তারপর মাথায় বল ঠেকিয়ে বুলেট গতিতে তা প্রতিপক্ষের জালে জড়ানো। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এ কারণেই ছিলেন বিখ্যাত। ভক্তরা তার এই লাফ দেখার প্রতীক্ষায় থাকতেন। যে উচ্চ লাফে তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন লা লিগা ও সিরি-আতে। পর্তুগালের হয়েও আছে এই কীর্তি। এতকাল সেটা নিজের দখলেই ছিল। তবে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মরক্কোর ইউসেফ এন-নেসিরি। সেটাও আবার পর্তুগালের বিপক্ষেই। তাই ফুটবল মাঠের উচ্চ লাফে সেরা এই এখন মরক্কান।
তবে ইউসেফের রেকর্ডটা রোনালদোর ভিন্ন। রোনালদোরটা ছিল ক্লাব ফুটবলে, আর নেসিরি করেছেন বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জার্সিতে। ২০১৯ সালে সাম্পডোরিয়ার বিপক্ষে জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে রোনালদো উচ্চ লাফ গোল করেছিলেন। তিনি সেদিন ৮ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতায় লাফ দেন।
সেই রেকর্ড ভেঙেছিলেন উগান্ডার ডিফেন্ডার বেভিস মুগাবি। স্কটিশ ক্লাব মাদারওয়েল এফসির হয়ে রস কাউন্টির বিপক্ষে সেদিন প্রায় ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতায় লাফ দেন তিনি। তবে গত শনিবার রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে ইউসেফ লাফ দেন ৯ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতায়। যে লাফে তিনি ছাড়িয়ে যান এই দুই ফুটবলারকে।
তবে অলিম্পিক ডট কমের তথ্যমতে বিশ্ব রেকর্ডের তালিকায় এখনও শীর্ষে রয়েছে পর্তুগীজ তারকা রোনালদোর নামটাই। ২০১২-১৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে সেদিন রেকর্ড গড়া লাফটা দিয়েছিলেন তিনি। ৯ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চাতায় লাফ দিতে দেখা যায় সিআর সেভেন।
রোনালদোর আরও কয়েক লাফ দেওয়ার রেকর্ড আছে। জুভেন্টাসের হয়েই সিরি-আতে ২০১৮-১৯ মৌসুমে তরিনোর বিপক্ষে ৮ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতায় লাফ দিয়েছিলেন। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের পোশাক গায়ে ওসাসুনার বিপক্ষে ৮ ফুট উচ্চতায় লাফ দেন। তবে শুধু ক্লাব ফুটবলেই নয়, রোনালদোর উচ্চ লাফের রেকর্ড আছে পর্তুগালের জার্সি গায়েও। ২০১৬ সালের ইউরোতে ওয়েলসের বিপক্ষে ৭ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতায় লাফ দিয়ে গোল করেছিলেন তিনি।
উচ্চ লাফের রেকর্ডধারী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাতার এসেছিলেন। তবে এক বুক হতাশা আর চোখের জলে বিদায় নিতে হয় তাকে। তবে ৩৭ বছর বয়সী এই পর্তুগীজ এখনই ফুটবলকে বিদায় বলতে চান না।
সম্প্রতি ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘পথচলাটা দীর্ঘ, আমি এটা দ্রুত শেষ করতে চাই না। আমি আরও কয়েক বছর পর্তুগালের হয়ে খেলতে চাই। আমি এখনও খেলার জন্য ফিট আছি বলে মনে করি।’
