চলে এলো নতুন বছর ২০২৩, শুরু হয়ে গেল ওয়ানডে বিশ্বকাপের ক্ষণগণনাও। টি-টোয়েন্টির বিশ্বকাপ পরপর দুই বছর হয়েছে দুটো, নতুন বছরে আছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এত বিশ্বকাপের ভিড়েও ৫০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বকাপের আবেদনটাই আলাদা, অন্তত বাংলাদেশের কাছে। কারণ, এই সংস্করণেই বাংলাদেশ সবচেয়ে সফল আর বিশ্বকাপটা ভারতের মাটিতে হওয়াতে প্রত্যাশাও বেশি।
নতুন বছরের শুরুতেই মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নবম আসর। মাঝে বিপিএলের বেশ কিছু আসরে মাত্র এক মৌসুমের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আসছে আসর থেকে বিসিবি স্বত্ব বিক্রি করেছে তিন মৌসুমের জন্য, অর্থাৎ অন্তত তিন মৌসুম একই নামে খেলতে দেখা যাবে দলগুলোকে যা অতীতের বেশ কিছু আসরে দেখা যায়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিমিয়ার লিগ, আমিরাতের টি-২০ লিগসহ বেশ কিছু আসরই চলবে বিপিএলের সমান্তরালে, তাই শুরুতে মানসম্মত খেলোয়াড় প্রাপ্তি নিয়ে আশংকা জাগলেও পরবর্তীতে পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ পিছিয়ে যাওয়াতে শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ, মোহাম্মদ রিজওয়ানসহ অনেক নামি খেলোয়াড়ই মাঠ মাতাবেন বিপিএলে।
বিপিএলের ফাইনাল মাঠে গড়াবার দিন কয়েক পরই বাংলাদেশে চলে আসবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলতে ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড, তিনটি ওয়ানডেই সুপার লিগের অংশ।
যদিও এখন আর ওয়ানডে সুপার লিগ, যা ২০২৩ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বও নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই দুই দলের, কারণ পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ড আর পাঁচে থাকা বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত। তবুও ইংল্যান্ড মানেই বাড়তি উত্তেজনা আর পুরনো হিসাব! বাংলাদেশের কাছে ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়ানডে হেরে গিয়েই বদলে যায় ইংল্যান্ড, ২০১৯ বিশ্বকাপে জেতে শিরোপা। অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর বাংলাদেশ ঘরের মাঠে একটাই ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে, সেটা ইংল্যান্ডের কাছেই।
সাকিব আল হাসান গত শুক্রবার ক্রীড়াসাংবাদিকদের একটি অনুষ্ঠানে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘এবার ইংল্যান্ডকে হারানো সম্ভব। আমরা যেভাবে খেলছি তাতে ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে হারানো খুবই সম্ভব, টি-টোয়েন্টি দলটাও দাঁড়িয়ে গেছে। একটা লেগস্পিনার হলে খুব ভালো হতো। তবে মিরপুরে অত দরকার পড়ে না, চট্টগ্রামে দরকার।’
মার্চের ১৪ তারিখে শেষ হবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ, এরপর ক্রিকেটাররা ব্যস্ত হয়ে পড়বেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে। আইরিশদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ খেলবে একটি টেস্ট এবং তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি। এখানেই শেষ নয় আইরিশদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ যেখানে তারা খেলবে ৩ ওয়ানডে ও ৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
জুন-জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবে আফগানিস্তান। কাবুলিওয়ালাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলবে ২টি টেস্ট, ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি। আগস্ট মাসে আইসিসির সূচিতে কোনো খেলা নেই বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের বছরে যে ফরম্যাটের বিশ্বকাপ সেই ফরম্যাটের এশিয়া কাপ হওয়ার রেওয়াজে ২০১৮ সালের পর আবারও ওয়ানডে সংস্করণে এশিয়া কাপ হতে পারে সেপ্টেম্বরে। তবে এবারের এশিয়া কাপের স্বত্ব পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হাতে, পিসিবি নিজের দেশে এশিয়া কাপ আয়োজনে আগ্রহী আর ভারত পাকিস্তানে যেতে রাজি নয়। এই নিয়ে একটি জটিলতায় এশিয়া কাপের ভাগ্য।
অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০১৯ সালের মতো এবারও হবে ১০ দলের বিশ্বকাপ, অর্থাৎ সবার সঙ্গে সবার খেলা গ্রুপ পর্বে। বাংলাদেশ অন্তত ৯টি ম্যাচ খেলবে গ্রুপ পর্বে। এরপর এগিয়ে যেতে পারলে ম্যাচসংখ্যা বাড়বে। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে এসে তিনটি ওয়ানডে খেলবে নিউজিল্যান্ড, বিশ্বকাপের পর খেলবে দুটো টেস্ট। বছরের শেষভাগে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ, খেলবে ৩ ওয়ানডে ও ৩ টি-টোয়েন্টি।
বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নতুন বছরে বাংলাদেশের টেস্ট সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী, ‘২০২৩ সালে আমাদের তিনটা বা পাঁচটা টেস্ট ম্যাচ আছে এফটিপিতে, যেটা আমি জানি। আমি মনে করি তিনটি সিরিজই আমাদের জেতা উচিত, যে ধরনের দলের সঙ্গে আমরা খেলব। অবশ্যই জেতা উচিত’ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষে বলেছিলেন তিনি।