মাগুরায় ৮ বছর বয়সী শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অধস্তন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রায় দেন। পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক ভীষ্মদেব চক্রবর্তী। এতে একমত পোষণ করেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক।
দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখ নিহত শিশুটির বোনের শ্বশুর। ২০২৫ সালের মার্চে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ ভোরে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে ৮ মার্চ তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির জন্য কয়েকদিন পথে নেমেছিলেন ছাত্র, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মুখর হয়ে ওঠে সারাদেশ।
ওই বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং বোনের শাশুড়ি জাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়। সজীব ও রাতুলের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো এবং জাহিদার বিরুদ্ধে আলামত গোপনের অভিযোগ ছিল।
অধস্তন আদালতের এ রায়ের পর হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গঠিত বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় আসার পর গত ১১ আগস্ট শুনানি শুরু হয়। তিন কার্যদিবস শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
অধস্তন আদালতের রায়ের ১৫ মাসের মধ্যে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে মামলাটির রায় দেওয়া হয়।