সৃজনশীল পেশা ডিজিটাল ক্রিয়েটর

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৫৪ পিএম

এ সময়ের জনপ্রিয় ও স্বাধীন পেশা হলো ডিজিটাল ক্রিয়েটর। এ পেশায় যোগ দেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফ্যাশন, সৌন্দর্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে গেমিং, শিল্প, ভিডিও, সংগীত, নকশা, এমনকি খাবার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্রিয়েটর আছেন। কিন্তু ডিজিটাল ক্রিয়েটর বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর মানে কী বা কীভাবে একজন ডিজিটাল ক্রিয়েটর হওয়া যায় জানালেন রবিউল কমল

আপনি যখন ফেইসবুক বা টুইটারে স্ক্রোল করেন তখন অনেক ভিডিও সামনে আসে। আবার ইউটিউবে কিছু সার্চ করলেই অনেক চ্যানেল কিংবা ভিডিও পেয়ে যান। সহজ ভাষায় এসব ভিডিও কনটেন্ট যারা তৈরি করেন তারাই ডিজিটাল ক্রিয়েটর। ইন্টারনেটের কল্যাণে নিজেই নিজেদের সৃজনশীল দিক নিয়ে কনটেন্ট বানাচ্ছেন। আর এসব কনটেন্ট বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে উপার্জন করছেন।

ডিজিটাল ক্রিয়েটর ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ডিজিটাল ক্রিয়েটরের মধ্যে সামান্য পার্থক্য আছে। ক্রিয়েটর হলো এমন ব্যক্তি যারা কোনো পণ্য, ব্র্যান্ড বা পরিষেবা নিয়ে মিডিয়া, বিশেষত ডিজিটাল মিডিয়াতে প্রচারের কনটেন্ট তৈরি করে। পার্থক্য হলো ডিজিটাল ক্রিয়েটররা তাদের কনটেন্ট ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব বা টিকটকের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে। অন্যদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিনের মতো অনলাইন ও অফলাইন মিডিয়ার জন্য কনটেন্ট লেখেন। পার্থক্য যাই হোক উভয়ের কাজ হলো কনটেন্ট তৈরি করা।

কনটেন্ট বানিয়ে আয় : ডিজিটাল ক্রিয়েটররা কনটেন্ট দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু তারা কীভাবে আয় করেন জেনে নিন।

বিজ্ঞাপন থেকে আয় : ব্লগার ও ইউটিউবারদের আয়ের অন্যতম উৎস বিজ্ঞাপন। গুগল এসব বিজ্ঞাপন ও অর্থ পরিশোধ করে থাকে। বিজ্ঞাপন পেতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন- গুগলের বিজ্ঞাপন পেতে একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট সংখ্যক সেশন বা ভিজিটর থাকতে হয়। ইউটিউবে বিজ্ঞাপন পেতে ১ হাজার সাবসক্রাইবার থাকতে হয়।

পণ্য বিক্রয় : ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের আয়ের আরেক জনপ্রিয় উৎস  ই-বুক, কোর্স, ছবি এবং পণ্যদ্রব্য বিক্রি। এপ্রক্রিয়ায় অবশ্য তৃতীয় পক্ষের জন্য কনটেন্ট বানাতে হয়। বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে। এটি ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের জন্য লাভজনক উপায়। যেমন- আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ হন, তাহলে অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে আপনার প্রোগ্রাম বিক্রি করতে পারবেন।

স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ড ডিল : ডিজিটাল ক্রিয়েটর হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে স্পনসররা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অর্থের বিনিময়ে, সেই ক্রিয়েটর নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের প্রচার করেন।

অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে আয় : ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের পছন্দ হলো বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকা আয় করা সম্ভব। ফেইসবুক পেজ ও ইউটিউব হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। ইন্সটাগ্রাম ও টিকটক থেকেও মানুষ অর্থ উপার্জন করছে। ইউটিউব ও ফেইসবুকে যার ফলোয়ার বেশি এবং ভিডিও যত বেশি দেখা হবে তত বেশি অর্থ উপার্জন হবে।

ডিজিটাল ক্রিয়েটর হতে হলে : আপনি যদি ডিজিটাল ক্রিয়েটর হতে চান তাহলে কিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ধাপগুলো হলো-

কেমন কনটেন্ট বানাবেন : শুরুতেই ঠিক করতে হবে, আপনি কোন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট বানাবেন। এরপর আপনি যে কনটেন্ট বানাতে চান তার চাহিদা ও প্রতিযোগিতা যাচাই করুন। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে অবশ্যই অন্যদের চেয়ে আলাদা হতে হবে।

প্রতিনিয়ত শিখতে হবে : আপনি একটি ব্লগ প্রতিষ্ঠা করতে চান। সেক্ষেত্রে, আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (এসইও), ওয়েবসাইটে কীভাবে ট্র্যাফিক তৈরি করতে হয় এবং অনলাইন বিপণন সম্পর্কে জানতে হবে। ক্রমাগত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে শেখার মানসিকতা থাকতে হবে।

পোর্টফোলিও তৈরি : ক্লায়েন্টদের প্রতিক্রিয়া জানতে হবে। শুধু জানলেই হবে না সেগুলো অন্যদের জানাতে পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে। তাহলে অন্যরা আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়া : ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের ফলোয়ার বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোতে যুক্ত হতে হবে। পরে সেলফ ব্রান্ডিংয়ে মনোযোগী হতে হবে।

গবেষণা : যে বিষয়ে কনটেন্ট বানাতে চান সেই বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। নতুন তথ্য সংগ্রহ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করে সৃজনশীল কনটেন্ট বানাতে হবে। উপস্থাপনা সাবলীল হতে হবে।

ধারাবাহিকতা : আপনি যত বেশি কনটেন্ট বানাবেন তত বেশি ভিজিটর পাবেন। আপনি যদি সেরা ক্রিয়েটর হতে চান তাহলে অবশ্যই নিয়মিতভাবে কনটেন্ট বানাতে হবে। হয়তো এটি স্বাধীন পেশা, কিন্তু তার মানে এই নয়- আপনার অনেক অবসর থাকবে। ফলোয়ারদের চোখের আড়াল না হয়ে নিয়মিত কনটেন্ট দিয়ে তাদের সঙ্গে থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত