ডাটাবেইজই নেই বাংলা একাডেমি গ্রন্থাগারে!

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৫২ পিএম

বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য নিহীত এর মাঝেই। গৌরবোজ্জ্বল এ প্রতিষ্ঠান ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অর্জন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বুদ্ধিবৃত্তিক মননশীল চর্চা ও গবেষণাসহ গ্রন্থাগার সেবা প্রদান করে আসছে এ প্রতিষ্ঠান। দেশ-বিদেশের বরেণ্য পণ্ডিতসহ বিশেষজ্ঞ গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী ও বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষর্থীরা বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগার ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু বিপত্তি অন্যখানে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত গ্রন্থ, সাময়িকী ও পত্রিকার ডাটাবেইজ নেই বাংলা একাডেমির। ডাটাবেইজ না থাকায় গবেষক ও পাঠকের যুগোপযোগী ও প্রত্যাশিত সেবাও দিতে পারছে না তারা। এ জন্য বাংলা একাডেমিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে খরচ হবে ২০ কোটি টাকা।

'বাংলা একাডেমি গ্রন্থাগার আধুনিকীকরণ : অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অটোমেশন ও ডিজিটাইজেশন' শীর্ষক প্রকল্পের ওপর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভার কার্যবিবরণী সভা সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রকল্পটির মূল কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জামাদি ক্রয়, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ক্রয়, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি ক্রয়, আসবাবপত্র ক্রয়, পরামর্শক সেবা ক্রয়, হায়ারিং চার্জ, ভবন সংস্কার ও মেরামত ইত্যাদি।

সভায় পরিকল্পনা কমিশনের স্কাইসোয়াম অনুবিভাগের যুগ্ম-প্রধান মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বাংলা একাডেমির অধ্যয়ন ও গবেষণার উৎকর্ষতা বাড়াতে বাংলা একাডেমির বিদ্যমান গ্রন্থাগারকে অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিসম্পন্ন তথা অটোমেশন প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

স্কাইসোয়াম অনুবিভাগের যুগ্ম-প্রধান আরো জানান, বাংলা একাডেমি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে অর্থ বিভাগ ইতিমধ্যে সম্মতি দিয়েছে। অর্থ বিভাগ ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাজি হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জনবলের বিষয়েও অর্থ বিভাগের জনবল নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ রয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটির ওপর একটি সম্ভাব্যতা যাচাই ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ, আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতির জন্য পিডব্লিউডির ২০২২ সালের রেইট সিডিউল অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। অটোমেশন যন্ত্রপাতির দর ও স্পেসিফিকেশন অনলাইনে সংগ্রহ করে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। তা ছাড়া, প্রকল্পের স্থাপত্য ও অভ্যন্তরীণ নকশার ক্ষেত্রেও স্থাপত্য অধিদপ্তর সম্মতি দিয়েছে।

সভায় আইএমইডির প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে বর্তমান আর্থিক প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের কাজ চলতি অর্থ বছরে না করে পরবর্তী অর্থ বছরে করা এবং প্রকল্পের ব্যয় কমানো যায় কিনা তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় অর্থায়ন ও জনবলসংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যয় প্রাক্কলন যথাসম্ভব সীমিত আকারে রেখে বছরভিত্তিক বায় বিভাজন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নুরুল হুদা উল্লেখ করেন, একাডেমির অন্যকোনো প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন নেই এবং অতিরিক্ত রাজস্ব বরাদ্দও নেই, যা দিয়ে লাইব্রেরিটি অটোমেশন করা যেতে পারে।

অবশ্য পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক বিভাগের কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিক্ষার প্রসার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে প্রকল্পটির গুরুত্ব রয়েছে।

প্রস্তাবিত ডিপিপির অঙ্গভিত্তিক ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিস্তারিত আলোচনায় আপ্যায়ন যাতে প্রস্তাবিত ৩ লাখ ৬০ হাজারের পরিবর্তে ৩ লাখ টাকা, হায়ারিং চার্জ খাতে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, শ্রমিক মজুরি খাতে ৬ লাখ টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, সম্মানী খাতে ৪ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩ লাখ টাকা, অনুষ্ঠান খাতে ৩ লাখ টাকার পরিবর্তে ১ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র খাতে ৬১ লাখ টাকার পরিবর্তে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত