গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হেলাল উদ্দিন (৬৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার রাতে ওই এলাকার আল-আমিন পোলট্রি ফিড নামে একটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। হেলাল উদ্দিন ওই দোকানের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তাকে খুন করে লাশ ফেলে রেখে যায় ডাকাতরা। তবে পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তি কীভাবে নিহত হয়েছেন তা তদন্তের পরেই বলা যাবে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি মাহতাব উদ্দিন বলেছেন, রবিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ময়লার স্তূপ থেকে বয়স্ক এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরহাজীপুর গ্রামে। তিনি পোলট্রি ফিডের দোকানটির নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। শনিবার রাতে ওই দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করেছে একদল ডাকাত। সে সময় তিনি হয়তো বাধা দিয়েছিলেন।
আল-আমিন পোলট্রি ফিডের মালিক আহমেদ ইয়াদগির আলী জানান, গতকাল সকালে দোকানে গিয়ে দেখেন শাটার ও কলাপসিবল গেটের তালা ভাঙা। ড্রয়ারগুলো ভাঙা খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। দোকানের সিন্দুকও ভাঙা ছিল। তবে হেলালকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
কালিয়াকৈর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, নিহতের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। পুলিশের একাধিক টিম এটি নিয়ে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।
এদিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে এক পোশাক শ্রমিককে উপর্যুপরি কুপিয়েছে। গুরুতর আহত পোশাক শ্রমিক রবিউল ইসলাম রনিকে (২৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বজনরা জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার বড় দেওড়া আদর্শপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে খাঁপাড়া সড়ক (থানা রোড) অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, সিজন ড্রেস পোশাক কারখানার শ্রমিক রবিউল ইসলাম রনি গতকাল দুপুরের খাবার বিরতির সময় বালুর মাঠের পাশ দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় আগের ঘটনার জের হিসেবে মাদক কারবারি ১০-১৫ কিশোর গ্যাং সদস্য তার ওপর চড়াও হয়। তিনি আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে বাসার দিকে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে কোপাতে কোপাতে বাসা পর্যন্ত তাকে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে পরে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আজম বলেন, সন্ত্রাসী হামলায় আহত রবিউলের মা আমেনা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন গাজীপুর ও শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
