ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। গর্বাচেভ এবং ভদকাবন্দনাপীর ইয়েলেৎসিনের চেয়ে খারাপ লোক। সম্ভবত স্তালিনের চেয়েও খারাপ লোক। তাকে ইভান দ্য টেরিবেল বলতে পারলে ভালো হতো। গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই তার আচরণে এবং রাশিয়ায় অর্থাৎ রুশ ফেডারেশনে। তার সবচেয়ে বড় মিত্র গণপ্রজাতন্ত্রী চীনেও গণতন্ত্র নেই। দুই অগণতন্ত্র (একটা সাবেক ও একটা বর্তমান কমিউনিস্ট দেশ) এবং সর্বাত্মকবাদ (টোটালিটারিয়ানিজম) এখন বাণিজ্যিক-রাসায়নিক হালুয়া পাকাচ্ছে, ডলারকে নাকচ করে দেওয়ার জন্য। পুতিন জঘন্য; কমরেড ইয়েলেৎসিনের মতো ভালো লোক নয় ভদকার রাজ্যে বসে ভদকা খায় না। এটাই পুতিনবিষয়ক পাশ্চাত্য ভাষ্য। অল্টারনেট ভার্সন অব দ্য হলি স্ক্রিপচার।
রাশিয়া ও চীনের আরেক মিত্র উত্তর কোরিয়া। সেখানেও গণতন্ত্র নেই। কী বিতিকিচ্ছিরি দোস্তালি রে বাবা! ব্রুটস অ্যান্ড ব্রুটাস! চীন তো করোনাময়ীর রাসলীলা। পুতিন বরং রাসপুতিন হলে খুব ভালো হতো। রাশিয়া হলো স্ল্যাভাসুরের দেশ, আর চীন হলো কিরাতাসুর। উত্তর কোরিয়াও অসুর। সবাই মিলে অসুরবনীপাল! বাংলাদেশও অসুরের দেশ বঙ্গাসুর। তবে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এখন থাক। জিওপলিটিক্যাল ডাইসে বাংলাদেশকে নিয়ে খেলা করা যাবে না, আণ্ডা-গণ্ডা দেশও পশ্চিমা পলিসিতে এখন গুরুত্বপূর্ণ। সাবধানে কথা বলা পাশ্চাত্য ভদ্রলোকের লক্ষণ। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের পাশের দেশ ভারত। আবার চীনের সঙ্গেও তার ভাবসাব ইদানীং ভালো। ভারতকে নিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক রসায়নের বিক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশকেও এই বলয়ে- গোবলয়ে না হলেও রাখতে হবে। অতএব বাংলা হেজিমনিক ডিসকোর্স থেকে আপাতত বাদ থাক। ঘুঘু ফসকে গেলে সমস্যা। ফাঁদে পড়বে কে? তাহলে চীনের বিরুদ্ধে তাকে কাজে লাগানো যাবে কি! চীনকে চেকে রাখতে না পারলে আবার রাশিয়া এসে হাজির হবে। শি-পুতিন সমীকরণটা বেশ জটিল। দে আর জেন্টিলস অর গোয়িমস। লং লিভ গর্বি, লং লিভ ইলি। ইউ আর দ্য প্রফেটস, হু কেম বিফোর দ্য জাজমেন্ট ডে। ইউ আর দ্য টার্মিনেটরস অব ইভিল। ডাউন উইথ পুতিন, রাদার সে রাসপুতিন।
ইউক্রেনের ওপর আশীর্বাদ বর্ষিত হোক। লং লিভ প্রিন্স ভলোদিমির জেলেনস্কি হু উইল লিড আস টু হেভেন, হোয়ার অলরেডি ইলি (কমরেড ইয়েলেৎসিন) হ্যাজ গন। প্রিন্স ভলোদিমিরস ইউক্রেন অ্যান্ড ইটস লিবারেটর ফোর্সেস আর ডুয়িং ওয়েল, ফাইটিং দ্য রাশান ডেমনস হিরোয়িকেলি। দে আর অ’সাম ইন প্লেয়িং পিয়ানো এরোটিকেলি এজ প্রিন্স ভলোদিমির জেলেনস্কি প্লেজ। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বীরত্ব দেখার মতো। তারা বালাকলিয়া দখল করেছে, ইজিয়ুম দখল করেছে, ক্রাসনি লিমান দখল করেছে, কুপিয়ানস্ক দখল করেছে। মাঝেমাঝেই তারা রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়া দখলকৃত এসব জায়গা আবার দখল করতে পারেনি। বরং রাশিয়া খেরসনে দিনিয়েপার নদীর পশ্চিম পাশ অর্থাৎ খেরসন শহর ছেড়ে এসেছে ইউক্রেন বাহিনীর হাতে। কী লজ্জার বিষয়। একদিন ইউক্রেন ক্রিমিয়া দখল করবে। দনবাস তো দখল করবেই। গড ইজ উইথ দেম। স্বর্গোদ্যান রক্ষায় নিয়োজিত চেরাবগণ (চেরুবিম, বাইবেল) ঘূর্ণায়মান বিদ্যুত্তলোয়ার নিয়ে তাদের সঙ্গে শামিল হয়েছে, যেন একেকজন শামিল বাসায়েভ- ইউক্রেন শ্যাল ওভারকাম রাশিয়া সাম ডে। সারা বিশ^ এখন ইউক্রেনের পাশে শুধু ইউক্রেন ছাড়া!
পুতিন এবং তার জেনারেল স্টাফ হারছিলই এবং পাশ্চাত্যপুরাণের (যথা বিবিসি, সিএনএন প্রভৃতি) বিবরণ অনুযায়ী তার এবং তাদের জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ বুচায় সব বুজায়া গেছে। কমেডিয়ান প্রিন্স ম্যাডিস্কি জেলেনস্কি এবং হেনস স্টলটেনবার্গের ডুমস ডে ফাইটারস অব ন্যাটো (নর্থ আটলান্টিক টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশন) বীরত্বগাথা লিখছিল ভুন্ডারবাফেন দিয়ে, একদা হের গিৎলার যেমন লিখতে চেয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নে। প্রসঙ্গত, রুশীরা হিটলারকে বলে গিৎলার। জার্মান ভুন্ডারবাফেনের আভিধানিক অর্থ আজবাস্ত্র (আজব-অস্ত্র) বা ওয়ান্ডার-উইপন; একে তাজ্জবাস্ত্র, বিস্ময়াস্ত্রও বলা চলে। ভারতীয় উপমহাদেশের (বিশেষ করে বাংলা) পরিভাষায় বলা যায় দিব্যাস্ত্র। অগণিত দিব্যাস্ত্র আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো থেকে। আর পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে অ্যাংলো-জায়নিস্ট পাকাল মুসাবিদায় ইউক্রেনের ‘লাখে লাখে সৈন্য কাতারে কাতার, গুনিয়া দেখ মাত্র কয়েক হাজার’ অবস্থা। এমন দশাতেই ভুন্ডারলান্ডিশ্চে আলিসা (অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড) গিয়ে হাজির হলো ইউক্রেনের সবজিক্ষেতে, শশকের পিছে দৌড়াতে দৌড়াতে। আঁতিপাঁতি করে খুঁজছে সে সেই কন্দর, যাতে ঢুকে পড়ে সে পৌঁছেছিল ওয়ান্ডারল্যান্ডে। কিন্তু সবজিক্ষেত এখন মাইনফিল্ড। ফলে মাইন খুঁজতে সে ব্যস্ত হয়ে পড়বে এবং ঢুকে পড়বে ভুন্ডারল্যান্ডে আলিসার অদ্ভুত জগতে।
দিব্যাস্ত্র এখন এত বেশি যে এসব এখন- আফটার দ্য গ্র্যান্ড রিসেট- ডালভাত হয়ে গেছে। সুপারসনিক অস্ত্র বা ভুন্ডারভুন্ডারবাফেনও বিবেচনায় ঠিক আসতে চায় না। এখন আলোচিত বিষয় হলো হাইপারসনিক অস্ত্র- গাণ্ডিব। নইলে প্যানিকই সৃষ্টি করা যাবে না। এই যে গণ্ডায় গণ্ডায় অবসলিট তথা অচল ট্যাঙ্ক ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করছে পশ্চাতিনারা (কালেকটিভ ওয়েস্ট) তাতে কার পশ্চাৎ তারা বুঁজাবে ঠাহর করা যাচ্ছে না। রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার হাতে এখন সব মাখাস্ত্র, যেসব অস্ত্রের ক্যাপাসিটির তোলাদণ্ড হচ্ছে মাখ (১ মাখ সমান শব্দের গতিবেগ)। ওরা যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৬ মাখের কারবারি। মাখীয় অস্ত্রের মু-ুতে থাকে এখন পরম ব্রহ্মাস্ত্র- ভুন্ডারভুন্ডারভুন্ডারবাফেন। তা ট্যাঙ্কজাতীয় এসব নন-সনিক অস্ত্রে কি কাজ হবে! ব্রহ্মাস্ত্রেও যখন কাজ হতে চায় না। আর ইউক্রেনের মতো গা-ু বাহিনীর হাতে পড়লে গাণ্ডিবের কী হবে?
জার্মান সেনাবাহিনীর ব্রিগেড জেনারেল এরিক ভাডের ভাষ্য-
‘
‘as did the Inspector General of the German Armed Forces, General Eberhard Zorn, who, like me, warned against overestimating the Ukrainians’ regionally limited offensives in the summer months. Military experts – who know what’s going on among the secret services, what it’s like on the ground and what war really means – are largely excluded from the discourse. They don’t fit in with media opinion-forming. We are largely experiencing a media synchronization that I have never experienced in …Military operations must always be coupled with attempts to bring about political solutions. The one-dimensionality of current foreign policy is hard to bear. She is very heavily focused on weapons. The main task of foreign policy is and remains diplomacy, reconciliation of interests, understanding and conflict management. … again as to what should happen with the deliveries of the tanks at all. To take over the Crimea or the Donbass, the martens and leopards are not enough. In eastern Ukraine, in the Bakhmut area, the Russians are clearly advancing. They will probably have completely conquered the Donbass before long. One only has to consider the numerical superiority of the Russians over Ukraine. … . We expect that the outcome of this conflict will reshape Europe’s outdated security architecture and force a realignment that will mark the end of the unipolar era.
(Ukraine: Is the Hammer About to Fall?; MIKE WHITNEY , JANUARY 17, 2023; https://www.unz.com)
লোগানস্ক ও দনেৎস্কে ফ্রন্টলাইন-পরিস্থিতি রাশিয়ার অনুকূলে। একটু একটু করে এগুচ্ছে রুশ ও দনবাস মিলিশিয়ারা। বাখমুত ও সলেদারে তাদের অগ্রগতি ভালো। সলেদার এরই মধ্যে রাশিয়ার দখলে গেছে। বাখমুতও যাবে যাবে করছে। পুতিন কী যেন একটা করতে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ইউক্রেনের ২৫০-৩০০ সেনা মারা যাচ্ছে বলে রাশিয়ার এবং কিছু বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে। সোলেদার রুশ প্রাইভেট মিলিটারি বাহিনী ভাগনার পিএমসির দখলে। পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে সেসব খবর অবশ্য নেই। পুতিনবাহিনী হারবে না এটাই মনে হচ্ছে। পাশ্চাত্যের কোনো সচেতন লেখক একথা বলছেন না যে, পুতিন উদ্যম হারিয়েছেন। তবে একথা ঠিক খেরসন সিটি এবং আরও কিছু এলাকা থেকে রুশ বাহিনী পিছু হটেছিল। পশ্চিমা প্রেস্টিটিউট বলছে, রাশিয়া পিছটান দিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযান বলছে অন্য কথা- এটা তাদের কৌশল। যেমন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একি ভাড বলেছেন। রাশিয়ার বাহিনীর শীতকালীন ভুন্ডারঅপারেশনে কী যে হয়! কেয়ামতের লক্ষণ দেখছেন অনেকেই- যেন আজবদেশে গিয়ে অ্যালিস খরগোশের গর্তে বসে ওয়ার ভিডিও দেখছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লেনিনগ্রাদ, স্তালিনগ্রাদে কী ঘটেছিল তার কথা আমরা ইতিহাসের পাতা থেকে জানি। এবার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় তেমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় ক্রিমিয়া কী হবে তা না হয় ড্রিমস্লিপের মধ্যেই থাকুক। কিংবদন্তির রাশিয়ান মাইটের সামনে ছায়ার যুদ্ধে (প্রক্সি যুদ্ধে) যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও ইইউ জিততে পারবে কি?
মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল মাইক মিলির ভাষ্য, চলমান যুদ্ধে জেতা ইউক্রেনের জন্য আসলেই কঠিন। আর যুদ্ধটা হয়তো এ বছর শেষ হবে না। রাশিয়া হয়তো জিতবে কিন্তু এ জেতাতেও বর্তমান বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের অবসান সম্ভবত হবে না। মার্কিন আধিপত্যের ম্যাট্রিক্স ফিল্ডে অনেকগুলো সমীকরণ থেকে যাচ্ছে। সবগুলোর সমাধান হওয়া দরকার। ইউক্রেনের যুদ্ধের অভিঘাত ডাইনে-বায়ে অনেক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জেলেনস্কির সাবেক উপদেষ্টা আলেক্সি অরেস্তোভিচ বলেছেন, এ যুদ্ধে ইউক্রেন জিতবে না। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের (ওরফে বোজো) ভুল একটা হয়েছিল ২০১৪ সালেই, যার জের টানছে পশ্চিমা বিশ্ব। ইউক্রেন যখন গত মার্চে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে যাচ্ছিল তখন বোজো প্রায় গোপনে ইউক্রেনে এসেছিলেন। এবং ধারণা করা চলে তিনিই ওয়ান্ডারল্যান্ডের অ্যালিস। খরগোশের গর্তে বসে কী যেন কী করলেন, আর বুচায় হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল। ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়াও থেমে গেল। নোয়াম চমস্কিকে এখন বলতে হচ্ছে- লেখক :
World moving closer to ‘irreversible’ disaster – The world is teetering on the brink of the abyss due to an increased risk of nuclear war, failure to address environmental challenges, and diminished ability to tackle problems rationally, world-renowned philosopher and linguist Noam Chomsky told RT. (https://www.rt.com)
লেখক: সাংবাদিক
