ফাঁসির দন্ড থেকে খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামি কারামুক্ত

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ড থেকে খালাস পাওয়া ১০ আসামি কারামুক্ত হয়েছেন। তারা পৃথক তিনটি কারাগারের ফাঁসির সেলে ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সোনাগাজী কামিল মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মণি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কন্যা মোবাস্বেরা খানম রাথিও (৬) বেরিয়ে আসেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের সবাইকে তাদের স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করেন।

এর আগে গত সোমবার সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম সাড়ে সাত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার থেকে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদের আদালত ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদন্ড দেন। গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদন্ড ও চারজন আসামি নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির যাবজ্জীবন দেওয়া হয়।

ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মাকসুদ আলমের খালাসের আদেশের কপি রবিবার রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। তার ভিত্তিতে গত সোমবার কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত