পর্যটন শহর বান্দরবানের সৌন্দর্যবর্ধন ও শহরকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে ৩ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল বিলাসবহুল স্ট্রিট লাইট। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনার অভাবে এ স্ট্রিট লাইটগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে স্থাপনের এক বছর পরই। এতে একদিকে স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের কাক্সিক্ষত সুফল পাচ্ছে না বান্দরবানবাসী, অন্যদিকে সরকারের ৫ কোটি টাকার পুরোটাই নষ্ট হয়েছে।
শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে, ট্রাফিক মোড়, ঈদগা মাঠ, পৌরসভা কার্যালয়, হোটেল হিলবার্ডসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি খুঁটির চূড়ায় বসানো হয়েছে পাঁচটি করে বাতি। মাটি থেকে প্রতিটি খুঁটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। তবে কোথাও খুঁটি আছে, আবার কোথাও নেই। আর লাইটসহ যে খুঁটিগুলো দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোতেও জ্বলছে না আলো।
জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও বান্দরবান পৌরসভার
বাস্তবায়নে পৌর এলাকাকে আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে সড়কের দুই পাশে বিলাশবহুল স্ট্রিট লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বাসস্ট্যান্ড থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত ও শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১৫০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক অনিক ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুই বছর আগে বান্দরবানে যখন বেড়াতে আসছিলাম, তখন সড়কের দুই পাশে স্থাপিত আধুনিক স্ট্রিট লাইটগুলো জ্বলছিল। অনেক সুন্দর লাগছিল লাইটগুলো। আমরা রাতেও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতাম। কিন্তু এবারে এসে দেখি, এগুলো আর জ্বলছে না।’
বাসস্ট্যান্ডের বাসিন্দা কাওসার আলী বলেন, ‘যখন স্ট্রিট লাইটগুলো নতুন নতুন স্থাপন করা হয়েছিল, তখন বান্দরবান শহরকে অন্য এক আধুনিক শহরের মতো লাগছিল। কিন্তু একদিকে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার আর পৌরসভা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে লাইটগুলো।’
পৌরসভার বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ বলেন, ‘এ প্রকল্প আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটেপুটে খাওয়ার জন্যই নেওয়া হয়েছিল। সৌন্দর্যবর্ধনের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। পর্যটন শহরে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের রাতের যাতায়াত নিরাপদ করার পাশাপাশি শহরের নান্দনিক রূপ ফুটিয়ে তোলার জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল, পৌরবাসী তার কোনো সুফল পায়নি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থাপন করা অধিকাংশ স্ট্রিট লাইটে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। এরই মধ্যে অনেক খুঁটি হেলে পড়েছে। কিছু খুঁটি তুলে আমার অফিসের পিছনে ফেলা হয়েছে।’ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইল তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই। এতে সৌন্দর্যের চেয়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই যেগুলো অবশিষ্ট আছে, এগুলোও তুলে ফেলা হবে। তবে বাসস্ট্যান্ড থেকে ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেটা হলে আশা করি, সড়ক আবার আলোকিত হয়ে উঠবে।’