কবরে প্রশ্ন করা হবে না যাদের

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:২৬ পিএম

মানুষ আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। আল্লাহ নিজেই তার স্বীকৃতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের উত্তম জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজ থেকে মানুষকে নিষেধ করো।’সুরা আলে ইমরান : ১১০

মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ইবাদত-বন্দেগি করতে, তার গুণগানে মগ্ন থাকতে ও দ্বীন ইসলামের আহকামগুলো পালন করতে। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি জিন এবং মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদত করার জন্য।’সুরা যারিয়াত : ৫৬

মহান আল্লাহ দেখতে চান কে পৃথিবীতে ভালো আমল করে আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন ও মরণ, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।’সুরা আল মুলক : ২

যারা আল্লাহতায়ালার বিধিনিষেধ ভালোভাবে পালন করবে তাদের প্রতিদান হিসেবে জান্নাত উপহার দেবেন। আর যারা তার বিধিনিষেধ অমান্য করবে তাদের প্রতিদান হিসেবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। মানুষ আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে নির্দিষ্ট একটি সময় বিচরণ করে। এই বিচরণকালের অবসান হবে মৃত্যু দ্বারা। মৃত্যুর পর আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল শুরু হবে কবরে। যারা আখেরাতের এই প্রথম মঞ্জিল পার হতে পারবে পরের মঞ্জিলগুলোতে পার হওয়া তার জন্য সহজ হবে।

তবে কোরআন-হাদিসের ভাষ্যমতে, যদি কোনো মুসলমানের ভেতরে পাঁচটি গুণ বিদ্যমান থাকে, তাহলে তাকে কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। সে আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল বিনা জবাবে পার হতে পারবে।

যে ইসলামি রাষ্ট্রের ভূখ-কে পাহারা দেয় : যে সৈন্যরা ইসলামি রাষ্ট্রের ভূখ-কে শক্রর হাত থেকে অক্ষত রাখার জন্য পাহারা দেয়। মুসলমানদের নিরাপত্তায় নিজেকে নিয়োজিত রাখে এবং তা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে সে কবরে প্রশ্নের মুখোমুখি হবে না।

শহীদ : যারা আল্লাহর একত্ববাদকে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর আহকাম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাতিলের আঘাতে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দেয় তারাই শহীদ। আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা অনুভব করতে পারো না।’সুরা বাকারা : ১৫৪

অনেক শহীদকে আল্লাহতায়ালা প্রশ্নের মুখোমুখি করবেন, যারা দুনিয়াতে নিজের প্রতিপত্তি লাভের আশায়, লোকে তাকে বীরপুরুষ বলবে, এই আশায় নিজের জীবন দেন, আল্লাহর রাস্তায় মরলেও তারা শহীদ বলে বিবেচিত হবে না। যারা আল্লাহকে খুশি করার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়, দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ যার থাকে না, তারাই প্রকৃত শহীদ। প্রকৃত শহীদরা কবরে প্রশ্নের মুখোমুখি হবে না।

সুরা মুলক নিয়মিত পড়া : সুরা মুলক পবিত্র কোরআনের ৬৭তম সুরা। আয়াত সংখ্যা ৩০, সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। যারা নিয়মিত সুরা মুলক তেলাওয়াত করবে, তারা কবরে প্রশ্নের মুখোমুখি হবে না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘তোমরা সুরা মুলক শিখে নাও এবং তোমাদের স্ত্রী-সন্তানদের শেখাও। এটা কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবে এবং এই সুরা তেলাওয়াতকারীর জন্য কেয়ামতে সুপারিশ করবে, তাকে মুক্ত করবে। এ ব্যাপারে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা মুলক তেলাওয়াতের আমল করবে, সে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে।’

জুমার দিনে মৃত্যুবরণ করা : জুমার দিনের ফজিলত অনেক, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে ইমানদাররা! জুমার দিন তোমাদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ইবনে মাজাহ

এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে তাহলে তাকে কবরে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। শর্ত হলোওই ব্যক্তিকে অবশ্যই সৎকর্মশীল হতে হবে।

পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী : কেউ যদি পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে কবরে সে প্রশ্নের মুখোমুখি হবে না। পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারীকে শহীদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। শহীদ প্রথমত দুই প্রকার, ক. যারা সরাসরি আল্লাহর রাস্তায় জীবন দেয়। খ. হুকুমি শহীদ অর্থাৎ তারা শহীদের মর্যাদা পাবে। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘সন্তান প্রসব বেদনায় মৃত্যুবরণকারী নারীও শহীদের মর্যাদা পাবে।’

উল্লিখিত পাঁচ গুণ যার ভেতরে থাকবে, তারা কবরে প্রশ্নের মুখোমুখি হবে না। সুতরাং গুণগুলো প্রত্যেক মুসলমানের ব্যক্তিজীবনে অর্জন করা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত