জীবনে সফল হওয়ার জন্য সময়ের সঠিক ব্যবহার অতি গুরুত্বপূর্ণ। সময় স্থির নয়, নদীর স্রোতের মতো বহমান। যারা সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগায় জীবনে তারাই সফল হয়। তাই সুন্দর জীবন গঠনে শিক্ষাজীবনে সময়ের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত
রুটিন মেনে চলা : শিক্ষাজীবনে রুটিন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। সকালে কখন ঘুম থেকে উঠবে, সারা দিন কী কী কাজ করবে আবার রাতে কখন ঘুমোবে তার একটি তালিকা তৈরি করে রাখলে সারা দিনের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। মনে রাখবে, জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন সুযোগ এবং সম্ভাবনা নিয়ে আসে। সকালবেলা দ্রুত ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করবে। সকাল ও রাতে নির্দিষ্ট সময় পড়তে বসবে। সময়মতো খাবার খাবে। পড়ার টেবিলের সামনে সারা দিন কখন কী করবে তার একটি তালিকা ঝুলিয়ে রাখবে এবং দিনশেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজেকেই জবাব দেবে আজকের কাজ ঠিকমতো হলো কি না। কাজ ঠিকভাবে হলে নিজেকে ধন্যবাদ দেবে। আর না হলে কেন হলো না, সেই কারণ অনুসন্ধান করে আগামী দিনটি সুন্দর করার চেষ্টা করবে।
দিনের কাজ দিনে শেষ করা : দিনের কাজ দিনে শেষ না করে আমরা অনেকেই কাজ জমিয়ে রাখি। ফলে শেষপর্যায়ে এসে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের ক্লাসের পড়া, হোমওয়ার্ক প্রতিদিন শেষ করবে। আজকে পড়া না শিখে যদি ফেলে রেখে দাও আর ভাবো যে পরীক্ষার আগে পড়বে, তখন অনেক পড়া জমে গিয়ে তোমার জন্যই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তোমার প্রতিটি দিনের পড়া তোমার বছর শেষে প্রাপ্ত ফলাফলের অংশ। সারা বছর তুমি কেমন পড়ালেখা করেছো তার পরিচয় মেলে বছর শেষে। তাই দিনের পড়া দিনে শেষ করবে।
একসময়ে একটি কাজ : যখন যে কাজটি করবে তাই মনোযোগ দিয়ে করবে। একসঙ্গে অনেকগুলো করতে গেলে দেখা যায় কোনো কাজই ভালোভাবে হয় না। পড়ার সময় পড়া আর খেলার সময় খেলা। খেলার মাঝে পড়ার চিন্তা করলে পড়ার মাঝেও খেলার চিন্তা আসবে। মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হবে, পড়াই মন বসবে না। সব কাজে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। নিজের কাছেই নিজে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে, এ কাজটি এখনই শেষ করতে হবে। যতক্ষণ না কাজ শেষ হয়, লেগে থাকবে। দেখবে প্রতিটি কাজই সুন্দরভাবে সমাপ্ত হচ্ছে। আর কাজ শেষ হলে মনের ভেতর যে তৃপ্তির আনন্দ পাওয়া যায় তা তোমাকে আরও কাজ করতে আগ্রহী করে তুলবে।
কাজে অলসতা নয় : অলসতা সব ধ্বংসের মূল। কোনো কাজেই অলসতা করবে না। অলসতা মানুষকে কর্মবিমুখ করে তোলে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি কাজ মনোযোগের সঙ্গে শেষ করার চেষ্টা করবে।
সামাজিক মাধ্যমের সুষ্ঠু ব্যবহার : বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর অপরিমিত ব্যবহারে নষ্ট হয় অগণিত সময়। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমের সুষ্ঠু ও পরিমিত ব্যবহার। ফেইসবুক বা ইউটিউবে অযথা ভিডিও দেখবে না। বন্ধুদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা দেওয়া, কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকবে। শুধু পড়াশোনা বা কাজের জন্য মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করবে।