চোখের ত্বকেরও যত্ন চাই

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪৮ এএম

বলিরেখা যখন চোখের নিচের অংশে আসে তখন বিশেষ যত্নের প্রয়োজন পড়ে। বলিরেখা ও দাগ দূর করতে চোখের যত্নের সাধারণ রুটিন অনুসরণ এবং নির্দিষ্ট পণ্যগুলো ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। লিখেছেন বিউটি ব্লগার নাহিন ইসলাম

রেটিনল-সমৃদ্ধ প্রসাধন : ত্বকের যত্নের প্রসাধনীর মধ্যে রেটিনল বাজে শব্দ। কিন্তু রেটিনল-সমৃদ্ধ পণ্য ত্বকে শোষিত হয় এবং কুঁচকানো ও সূক্ষ্ম রেখার উপস্থিতি হ্রাস করে। রেটিনল-সমৃদ্ধ এই ধরনের চোখের প্রসাধনী সপ্তাহে অন্তত তিনবার ব্যবহার করলে বলিরেখা সহজেই দূর হয়ে যাবে।

ময়েশ্চারাইজার দিন : নিয়মিত আইক্রিম ব্যবহার করলে চোখের নিচের কালো দাগ ও বলিরেখা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা অর্ধেকে নেমে যায়। শুধু আইক্রিম ময়েশ্চারাইজিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তাই হাইড্রেট ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর আইক্রিম ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া আইক্রিম কেনার সময় পরীক্ষা করুন যে রেটিনল ছাড়াও এতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ভিটামিন-ই এবং সি আছে কি না। এই উপাদানগুলো ত্বকে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে।

তেল ব্যবহার : শুষ্ক এবং ডিহাইড্রেটেড ত্বকে বলিরেখার ঝুঁকি বেশি। আপনার চোখের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে হাইড্রেট থাকলেও কিছুটা তেলের জন্য জায়গা থাকে। তেল দিয়ে ময়েশ্চারেশন সিল করা চোখের ত্বকের জন্য উপকার। সূর্যমুখী বা জলপাই তেল আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এই তেল ত্বকের আর্দ্রতাকে বাষ্প থেকে বাধা দেয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে।

চোখের ত্বকের যত্ন : আন্ডারআই ট্রিটমেন্ট মূলত চোখের চারপাশের ত্বকের যত্নে ওয়ানস্টপ সলিউশন। যার নিয়মিত চর্চায় আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে চারপাশের কালো দাগছোপ। বাড়ায় এই অংশের ত্বকের উজ্জ্বলতা। গভীর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে দাগছোপ কমে যায়। হয়ে ওঠে মসৃণ, কোমল ও টান টান।

হাইঅ্যান্ড এ আন্ডারআই ট্রিটমেন্ট চোখের জন্য স্পার মতো। যার শুরুতেই শরীর উপরিভাগে দেওয়া হয় রিল্যাক্সিং মাসাজ। গ্লাইডিং, নিংডি আর ফ্রিকশন স্ট্রোকে বিভিন্ন মাত্রার চাপ প্রয়োগ করে চলে পুরো প্রক্রিয়া। তারপর করা হয় ক্লিনজিং। চোখের চারপাশের ত্বক পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার হয়ে ওঠে এর ফলে। গভীর থেকে তেল, ময়লা আর দূষণ দূর হয়। পাঁচ মিনিট ধরে চলে ক্লিনজিং। তারপর মাসাজ। শুধু চোখের চারপাশের অংশজুড়ে দশ থেকে পনেরো মিনিট ধরে নানা রকম বাদাম আর এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের আইক্রিম দিয়ে। এর ফলে চোখের চারপাশের ত্বককোষ উদ্দীপ্ত হয় এবং বাড়ে রক্তসঞ্চালন। এরপর চোখের ওপর দেওয়া হয় টাটকা শসা আর আলু কুচি। এটা প্রশান্তি জোগায়। সঙ্গে আলু আর শসার রসের প্রাকৃতিক গুণাবলি সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে চোখের যাবতীয় সমস্যা। দাগছোপ, ফোলাভাব তো কমায়ই, সঙ্গে বাড়ায় উজ্জ্বলতা। নির্দিষ্ট সময় পর এগুলো সরিয়ে মাখানো হয় বিশেষায়িত আইক্রিম। এর ওপরই চলে মাসাজ। তবে হাতে নয়, গ্যালভানিক মেশিনে। যার ফলে আইক্রিমের সম্পূর্ণ গুণাবলি চোখের ত্বকের একদম গভীরে প্রবেশ করে। সারায় এই অংশের সূক্ষ্মরেখা আর বলিরেখা। তারপর চোখজোড়ায় দেওয়া হয় আই জেল। মাখিয়ে রেখে দেওয়া হয় পনেরো থেকে বিশ মিনিট। এতে চোখের বিশ্রামের সুযোগ মেলে। পাশাপাশি বিশেষায়িত জেল আন্ডারআই এ ট্রিটমেন্টকে কার্যকর করে তোলে বহু গুণে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত