খুমেকে চুরি যাওয়া নবজাতক ২৪ দিন পর উদ্ধার

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:৩৪ এএম

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে ২৪ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ টেস্টের জন্য তাকে খুমেকের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রাখা হয়েছে।

শিশুটি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজঙ্গের তোরাব আলী ও রানীমা বেগমের ছেলে। গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে নবজাতকটি চুরি হয়। পরদিন তার নানা বেলায়েত হোসেন মামলা করেন।

শিশুর মামা মোস্তফা বলেন, খবর পেয়ে নড়াইলের কালিয়ায় গিয়ে শিশুটিকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে পুলিশ ও র‌্যাবকে জানালে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া যে নারী নবজাতককে কিনেছিল তাকে ও তার স্বামীসহ আরও দুজনকে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তারা বলেছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে নবজাতককে ঢাকা থেকে কিনে এনেছে।

শিশুর বাবা তোরাব আলী ও মা রানীমা বেগম বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আমরা অনেক শোকর আদায় করছি। এ জন্য পুলিশ ও র‌্যাবসহ যারা আমাদের শিশুকে উদ্ধারে সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক তোফায়েল হোসেন বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গোপন  খবরে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।

গত ২৪ জানুয়ারি দুপুরে তোরাব আলীর স্ত্রী একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন। বিকেলে বাচ্চা নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করতে গিয়ে ভাড়া নিয়ে চালকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে সেই চালক গাড়ি নিয়ে এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু তিনি আগে যে গাড়ি দেখিয়েছিলেন সেটা না এনে ছোট গাড়ি নিয়ে আসেন। তখন তোরাব আলীর সঙ্গে চালক ও তার লোকদের কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় নবজাতকের নানা, বাবা ও মামার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই সময় নবজাতক তার খালার কাছে ছিল। তখন বোরকা পরা এক নারীর কাছে নবজাতক শিশুকে দিয়ে সে তার বাবা ও ভাইকে উদ্ধারে যান। মারামারি শেষে এসে সবাই দেখেন বাচ্চাসহ সেই নারী পালিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত