বেসিস সফটএক্সপো ২০২৩

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ১২:১৮ এএম

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববাসীর সামনে ‘বেসিস সফটএক্সপো-২০২৩’-এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য শোভা

‘ওয়েলকাম টু স্মার্টভার্স’ স্লোগান নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘বেসিস সফটএক্সপো-২০২৩’ শেষ হয়েছে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম সোপিয়া

বাংলাদেশের প্রথম গ্লোবাল নো কোডিং ই-কমার্স, ব্লগ এবং পোর্টফোলিও প্ল্যাটফর্ম সোপিয়া (শপ্পিয়া, Soppiya) এই প্রদর্শনীতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অফিশিয়ালি যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ই-কমার্স ব্যবসার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সোপিয়ার নির্বাহী পরিচালক আসাদ বিন আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, শপ্পিয়া একটি সাসভিত্তিক (এসএএসএস) সিএমএস প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহারের মাধ্যমে ৩০ মিনিট সুবিধাজনক প্যাকেজ, থিম, প্লাগইন, উইজেট, হোস্টেড সলিউশন এবং উন্নত প্রযুক্তিসহ মানসম্পন্ন প্রফেশনাল ই-কমার্স, ব্লগ, পোর্টফোলিও এবং ওয়েবসাইট একদম বিনামূল্যে নিজেই তৈরি করে নেওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘যাদের কোনো কোডিং বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান নেই তারাও ওয়েবসাইট সেটআপ করতে পারবেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

চাকরি মেলার আয়োজন

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইটি গ্র্যাজুয়েট ও আইটি প্রফেশনালরা এই চাকরি মেলায় আসেন। পাঁচ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী এই চাকরি মেলায় অংশ নেন। চাকরিপ্রত্যাশীরা পছন্দসই একেকজন ৩-৫টি আইটি কোম্পানিতে রেজিস্ট্রেশন করেন। এতে অংশ নেয় ১০২টি চাকরিদাতা আইটি প্রতিষ্ঠান।

চাকরি মেলার আয়োজন নিয়ে বিডিজবস ডটকমের মার্কেটিং ডিরেক্টর প্রকাশ রায় চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ আইটি প্রফেশনালদের বিপুল চাহিদা রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০২টি আইটি কোম্পানি ৫০০টি পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ দিতে চাকরিপ্রত্যাশীদের সিভি নিয়েছে।’ বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘বিডিজবস এবারের সফটএক্সপোতে দেশের সর্ববৃহৎ আইটি জব ফেয়ারের আয়োজন করেছে। মেলায় আমরা অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, এখান থেকে পাঁচ শতাধিক পদের বিপরীতে আইটি গ্র্যাজুয়েট ও আইটি প্রফেশনালরা নিশ্চিতভাবে চাকরি পাবেন।’

ই-ট্র্যাকারের চার সেবা

দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ই-ট্র্যাকার এবারের প্রদর্শনীতে নিজেদের চারটি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সেবা প্রদর্শন করেছে। সেবার মধ্যে ছিল ‘সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট’, যা সেলস ফোর্স এবং সেলস অর্ডার ম্যানেজমেন্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন; ‘পোলট্রি প্রো’, যা পোলট্রিশিল্পের সব কার্যক্রমের পাশাপাশি ভ্যাকসিন শিডিউল মেইনটেন এবং এফসিআর, লেয়ার লাইফ সাইকেল, ব্রয়লার লাইফ সাইকেলসহ বিশেষায়িত সব প্রতিবেদন একটি মোবাইল অ্যাপ থেকে পাওয়ার সমাধান; ‘সুপার কাপ’, যা কাস্টমার বা ইনফ্লুয়েনসারকে কোম্পানির প্রতি অনুগত রাখা, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন, কোম্পানির ব্র্যান্ডিং ও প্রমোশনাল অফার ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনায় সাহায্য করবে; ‘এইচআর টেলিস্কোপ’, যা মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সমাধান দেবে।

ই-ট্র্যাকার সলিউশনের কর্ণধার সাখাওয়াত রনি বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের বিজনেস ইন্ডাস্ট্রি উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগুলোর সঙ্গে পরিচিত হোক, আইটি সেবা গ্রহণের মাধ্যমে কাজগুলো সহজ করার পাশাপাশি ব্যবসায়ে সাফল্য বয়ে নিয়ে আসুক।’

 

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফটওয়্যারের বিকল্প নেই

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, স্পিকার

প্রতিদিনই আমাদের সফটওয়্যার নির্ভরশীলতা বাড়ছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফটওয়্যারের বিকল্প নেই। ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট গভর্নমেন্ট নামে চারটি স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে, আশা করি সে ক্ষেত্রে বেসিস অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

২০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করা সম্ভব

রাসেল টি আহমেদ, বেসিস সভাপতি

২০২৫ সাল নাগাদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বেসিস বিশ্বাস করে, শুধু ৫ বিলিয়ন ডলার নয়, ২০৩১ সাল নাগাদ এই খাত থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করা সম্ভব। দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী আয়োজনের মূল লক্ষ্য স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার পাশাপাশি সম্ভাবনাকে তুলে ধরা।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই মেধার মাধ্যমে ভ্যালুয়েশন সম্ভব

মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রথম প্রোগ্রামার হানিফ উদ্দিন মিয়ার কোডিং থেকে বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতের যাত্রা। এখন এই খাত বহু গুণে সমৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের রপ্তানি বিকেন্দ্রীকরণের কথা জানিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতই একমাত্র খাত যেখানে শুধু মেধার মাধ্যমে শতভাগ ভ্যালুয়েশন সম্ভব।

প্রাথমিক থেকে কোডিং শেখানো হচ্ছে

জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী

আইসিটি এখন অন্যতম শিল্প খাত হয়ে উঠেছে। ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে বর্তমানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ সেটি ৫ বিলিয়ন ডলারের উন্নীত করতে সরকারি ও বেসিস যৌথভাবে কাজ করছে। দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ ছাড়া এক লাখ ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রবলেম সলভার তৈরিতে প্রাথমিক থেকেই কোডিং শেখানো হচ্ছে। বেসিস সদস্যদের বেশ কটি প্রতিষ্ঠান বিদেশের প্রয়োজন মেটাতে এআই ও মাইক্রো চিপ তৈরির কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত