জাপানে রোবটের জন্য চালু হলো ‘হিউম্যানয়েড অ্যাম্বুলেন্স’

জিএমও এআইআর-এর প্রকৌশলী শোতা তাকিজাওয়া বলেন, 'ভবিষ্যতে যখন হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার আরও জনপ্রিয় ও বহুল হবে, তখন এই ধরনের সেবার অত্যন্ত প্রয়োজন পড়বে।'

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
টোকিওর রাস্তায় জরুরি সাইরেন ও ফ্লাশিং লাইট জ্বালিয়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স ছুটতে দেখলে সেটি কোনো মানুষের প্রাণ রক্ষায় না-ও হতে পারে। জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিএমও ইন্টারনেট গ্রুপ চলতি মাসেই টোকিওর রাস্তায় নামাচ্ছে দেশটির প্রথম 'হিউম্যানয়েড অ্যাম্বুলেন্স'। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মূলত কোনো হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেবা দেওয়ার জন্য এই রক্ষণাবেক্ষণ ভ্যানটি তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে রোবটের সমস্যা চিহ্নিত করার নানা প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ, মেরামতের সরঞ্জাম এবং দক্ষ প্রকৌশলীর দল। যদি রাস্তার পাশে বিকল রোবটটি তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা সম্ভব না হয়, তবে কাজে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য বিকল্প হিসেবে অন্য একটি নতুন রোবট তৎক্ষণাৎ নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। আর অকেজো রোবটটিকে টোকিওর শিবুয়ায় অবস্থিত জিএমও-র 'হিউম্যানয়েড ল্যাব'-এ নিয়ে আসা হবে।

প্রাথমিকভাবে টোকিওতে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। তবে এটি সাধারণ সব রোবটের জন্য পরিষেবা দেবে না; কেবল জিএমও এআই অ্যান্ড রোবোটিক্স ট্রেডিং (জিএমও এআইআর)-এর ব্যবহৃত রোবটগুলোর জরুরি প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করা হবে। উল্লেখ্য, এই জিএমও এআইআর কোম্পানিটি টোকিও বিমানবন্দরে রোবট দিয়ে লাগেজ বহনের কাজ পরিচালনা করছে এবং জেএএল গ্রাউন্ড সার্ভিসেসের সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইউনিট্রির তৈরি রোবট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

ইউরোনিউজের এক সংবাদ সম্মেলনে জিএমও এআইআর-এর প্রকৌশলী শোতা তাকিজাওয়া বলেন, 'ভবিষ্যতে যখন হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার আরও জনপ্রিয় ও বহুল হবে, তখন এই ধরনের সেবার অত্যন্ত প্রয়োজন পড়বে।' অ্যাম্বুলেন্সটির নকশা করেছেন টোকিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্ল্যামারাস-এর ডিজাইনার ইয়াসুমিচি মোরিতা। বিভিন্ন দেশের জরুরি যানবাহনের ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি তৈরি করেছেন। গাড়িটির ওপরে রয়েছে বেগুনি রঙের লাইটবার এবং গায়ে লেখা রয়েছে ‘হিউম্যানয়েড অ্যাম্বুলেন্স’।

জিএমও-র প্রধান নির্বাহী তোমোহিরো উচিদা জানান, আগে রোবট নষ্ট হলে তা মেরামতের জন্য দূরে পাঠাতে হতো, যা পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটাত। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই তারা তাৎক্ষণিক বিকল্প রোবট সরবরাহ ও ঘটনাস্থলেই মেরামতের এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের রোবট বাজারের ৩০ শতাংশের বেশি অংশ দখল এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পকে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষে জাপান সরকার গত এপ্রিলে তাদের 'এআই রোবোটিক্স স্ট্র্যাটেজি' প্রকাশ করে। বর্তমানে একটি মাত্র ভ্যান এই বড় লক্ষে বিশাল কোনো প্রভাব না ফেললেও, জিএমও স্পষ্টতই এটিকে সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একটি সমাধান হিসেবে দেখছে; যাতে রোবট সব জায়গায় সাধারণ হয়ে ওঠার আগেই মাঠপর্যায়ে মেরামতের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত