উচ্চ মাধ্যমিকের পর একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। আমারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। যদিও স্বপ্ন ছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। তবে সে সুযোগ না পাওয়ায় সিদ্ধান্ত নিলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার।
ছোটবেলায় যখন টিভিতে খবর দেখতাম তখন থেকেই আমার প্রবল ইচ্ছা ছিল সাংবাদিক হওয়ার। কিন্তু সাংবাদিক হতে হলে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়তে হবে। কিন্তু বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ না থাকায় আমি হতাশ হলাম। অবশেষে খোঁজ পেলাম স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্টামফোর্ডেই প্রথম সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগ চালু হয়েছিল। এটা জেনে আমার আগ্রহটা দ্বিগুণ হয়ে গেল। আর কোনো চিন্তাভাবনা না করেই ভর্তি হয়ে গেলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম দিনটি সবার জীবনেই স্মরণীয় হয়ে থাকে। তেমনি আমার জীবনেও এটি একটি স্মরণীয় দিন ছিল। দিনটি আগস্ট মাসের ১৮ তারিখ সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার।
প্রথম ক্লাস হওয়ায় খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠি। বৃহস্পতিবার হওয়ায় রাস্তায় ছিল প্রচুর ট্রাফিক জ্যাম। মাত্র ৪০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগল দেড় ঘণ্টা। যেহেতু ক্যাম্পাসে প্রথম দিন তাই একটু আগেভাগেই বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। যে কারণে ক্লাসে দেরি হয়নি।
ভয়ে উত্তেজনায় মুখ শুকিয়ে গেল, পানির পিপাসা পেয়ে গেল। নতুন পরিবেশ, অজানা ভয় সব মিলে আমার ক্যাম্পাসে প্রথম দিন শুরু।
ক্যাম্পাসে চোখে পড়ে অসংখ্য নতুন নতুন মুখ। জীবনের নতুন একটি মোড়। যদিও আমার বাবা অনেক চিন্তিত ছিল তাই বারবার মনে হচ্ছিল ‘মানিয়ে নিতে পারব তো?’
ক্যাম্পাসে ঢুকেই প্রথম ভবনটির নিচতলায় ছিল আমার ডিপার্টমেন্ট। একজনকে জিজ্ঞেস করে ১০৬ নম্বর রুমের পৌঁছলাম।
ক্লাসে ঢুকতেই অবাক হলাম আমি। সে যেন অন্যরকম রঙিন একটি জগৎ। কী সুন্দর রঙিন একটি ক্লাসরুম। রুমের চারদিকের দেয়ালে রং দিয়ে সুন্দর সুন্দর শব্দ লেখা ও ড্রইং করা।
দেখলাম একটা মেয়ে বসে আছে। তারপর তার সঙ্গে কথা হলো। এভাবেই আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বন্ধু নাহিনের সঙ্গে পরিচয় হলো।
প্রথম দিন ক্যাম্পাসে এসে দুজন শিক্ষককে চিনলাম। মোশাররফ স্যার ও সামিয়া ম্যাম। তাদের সুন্দর ব্যবহার আমাকে প্রথম দিনেই মুগ্ধ করেছিল।
ক্লাস শেষে আমি আর নাহিন ক্যাম্পাস, ডিপার্টমেন্ট, মাঠ, গ্রাউন্ড, লাইব্রেরি ও ক্যান্টিন ঘুরে দেখলাম। তারপর আমাদের সঙ্গে দেখা হলো ডিপার্টমেন্টের সিনিয়রদের। একটু ভয় লাগছিল প্রথমে। কিন্তু সবাই বন্ধুসুলভ ব্যবহার করল। প্রথম দিনেই ছোট বোনের মতো আপন করে নিল। প্রথম দিনেই ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের সবাই একটি পরিবার হয়ে গেল। দিন শেষে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন হয়ে থাকবে জীবনের নতুন অধ্যায়টি।
হ্যাপি ঘোষ
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
