রোজার বাজারে তেল-চিনি মিশিয়ে পচা খেজুর বিক্রি

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩, ০১:২৪ এএম

রমজান মাসে ইফতারে সবচেয়ে প্রচলিত খাবারের নাম খেজুর। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার ফজিলত ও বরকত রয়েছে। এছাড়া খেজুরের পুষ্টিগুণও কম নয়। আর কুমিল্লার অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে। ভোক্তাদের হাতে কৌশলে তুলে দিচ্ছে নিম্নমানের নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর। রমজানকে টার্গেট করে মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর নতুনভাবে মোড়কজাত করে বাজারে ছাড়া হয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ পচা খেজুরে চিনির সিরা ও সরিষার তেল মিশিয়ে চকচকে করে খোলা অবস্থায়ও বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষভাবে প্যাকেট করা খেজুর ছাড়া কোনো খেজুরেই প্রক্রিয়াজাত ও ব্যবহারের মেয়াদ উল্লেখ থাকছে না। ফলে কবে মেয়াদ শুরু হয়েছে এবং কোন তারিখে মেয়াদ শেষ হয়েছে তা বলা মুশকিল। বিক্রিও হচ্ছে ফুটপাতে ধুলাবালির মধ্যে। এ ব্যাপারে বিক্রেতা, ক্রেতা বা সরকারি খাদ্য মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তা কারোরই কোনো মাথাব্যথাই নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরে রং, কেমিক্যাল, গুড়সহ নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর পদার্থ মিশিয়ে চকচকে করে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। কুমিল্লা নগরী এবং জেলার সব হাটবাজারের ফুটপাতে এসব খেজুরের পসরা বসছে। আর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আবেগের এ ফলটি কিনছেনও দেদার। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন মজুদ রেখে বিপুল পরিমাণ খেজুর বাজারে ছেড়েছে।

রোজাদারদের আবেগকে পুঁজি করে কুমিল্লার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মানহীন পচা খেজুর বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরকে বিভিন্নভাবে প্যাকেট কিংবা পলিতে পেঁচিয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। নগরীর রাজগঞ্জ এবং রানীর বাজার, দাউদকান্দির গৌরীপুর, নিমসার বাজার, কোম্পানীগঞ্জ বাজার, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম এলাকার বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রমজানকে সামনে রেখে এসব খেজুর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে এনে নিজস্ব গুদামে রেখে প্যাকেট করে বাজারজাত করছে। নিম্নমানের এ খেজুর নগরীর কান্দিরপাড়, রানীরবাজার, রাজগঞ্জ, টমছম ব্রিজ, শাসনগাছা, নিউমার্কেট, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চকবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে এবং জেলার সব হাটবাজারে বিক্রি করছে হকারসহ ছোটখাটো ফল ব্যবসায়ীরা। বিক্রির আগে এসব খেজুরে সরিষার তেল, পাউডার, গুড়সহ নানা প্রকার অস্বাস্থ্যকর পণ্য মেশানো হচ্ছে। আমদানির পর এসব খেজুর প্রকারভেদে কার্টন করা হচ্ছে। উচ্চশ্রেণির ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন আরবি অক্ষর সংবলিত ছোট ছোট কাগজের কার্টন এবং পলি প্যাকেট করা হচ্ছে। আর প্যাকেটের গায়ে আরবি অক্ষর লেখা দেখে অনেকেই এই খেজুর কিনছেন। যাতে লেখা থাকছে না মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। কিন্তু ভেতরে থাকা খেঁজুরের মান সম্পর্কে অবহিত নন কোনো ক্রেতাই। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খেজুর খোলা কার্টনে করে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে বিক্রিকালে মানহীন নিম্নমানের এ খেজুরে মাছি ভনভন করে। দামে কম পেয়ে ইফতারির জন্য এসব খেজুর দেদার কিনছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যগুণ রয়েছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং পোকামাকড় ও মাছির মাধ্যমে জীবাণু প্রবেশ করলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

এদিকে ভেজাল ও মানহীন খেজুরের বিক্রি রোধে নগরীর বিভিন্ন বাজারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর অভিযান চালালেও মফস্বলের বাজারগুলোতে নজরদারি নেই একেবারেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, ‘অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। তাছাড়া রমজান আসার আগে থেকেই আমরা ভেজাল ও মানহীন পচা খেজুরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। খেজুরে কোনোপ্রকার ভেজাল কিংবা কেমিক্যাল মিশ্রণে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত