কয়লা সংকটে বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হুমকিতে

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ০৩:২৬ এএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দেশের একমাত্র কয়লাখনি বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আর এই খনিতে উত্তোলিত কয়লার মজুদও শেষের দিকে। ফলে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে ধুঁকে ধুঁকে চলছে উৎপাদন। অন্যদিকে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে কয়লা সংকটের কারণে পুরো উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ কিংবা লো-ভোল্টেজের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩য় ইউনিট থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০-১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। আর এই ৩য় ইউনিট উৎপাদনে রাখতে প্রতিদিন ১ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে এক নম্বর ইউনিটের উৎপাদন কয়লার অভাবে বন্ধ হয়েছে আগেই। এছাড়া সংস্কারকাজের জন্য দুই নম্বর ইউনিটের ওভারহোলিংয়ের কাজ চলছে। এক নম্বর ইউনিট দিয়ে প্রতিদিন ৯০ মেগাওয়াট এবং দুই নম্বর ইউনিট দিয়ে প্রতিদিন ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই চালু রেখে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৫ হাজার ২০০ টন কয়লার প্রয়োজন। তবে তিনটি ইউনিট একইসঙ্গে কখনই চালানো হয় না। কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দুটি ইউনিট চালু রেখে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দৈনিক কয়লার প্রয়োজন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন।

কয়লা উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘গত বছরের ২৭ জুলাই খনির ভূ-গর্ভে ১৩০৬ নম্বর কোল ফেইস থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই ফেইসে উত্তোলনযোগ্য কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নতুন ১১১৩ নম্বর ফেইজে (কূপে) স্থানান্তর হতে তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মতো সময় লাগতে পারে। এছাড়া ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ক্রটিবিচ্যুতি ধরা পড়লে মেরামতের জন্য বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হয়। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আবারও কয়লা উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

আর বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ওপর নির্ভশীল। কয়লাখনি থেকে সরবরাহকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লার উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩য় ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে দৈনিক কয়লা লাগছে ১ হাজার ৬শ’ থেকে ১ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন। কয়লার ওপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন আরও কমিয়ে আনা হতে পারে। কারণ মজুদ কয়লা দিয়ে আগামী মে মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখতে হবে।’

বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোল ইয়ার্ডে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ আছে এবং তা দিয়ে মে মাস পর্যন্ত চলবে বলেও জানান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী। এছাড়া কয়লা সংকটের কারণে পুরো উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ কিংবা লো-ভোল্টেজের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রথমে দুটি ইউনিট ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছিল। ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট স্থাপনের পর এটি ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলেও এখন পর্যন্ত ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কোনোদিনই উৎপাদন করতে সক্ষম হয়নি। ২৫০ মেগাওয়াটের স্থলে উৎপাদন হয়েছে ১৫০ থেকে ১৭৫ মেগাওয়াট। আর ২৭৫ মেগাওয়াটের স্থলে উৎপাদন হয়েছে ১৭৫ থেকে ২০০ মেগাওয়াট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত