প্রথমবারের মতো গাছের ছত্রাকে আক্রান্ত মানুষ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৩, ১১:২৪ পিএম

বিশ্বে প্রথমবারের মতো উদ্ভিদ ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। তিনি ভারতের কলকাতার একজন উদ্ভিদ ছত্রাকবিদ। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছত্রাকে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসকরা একটি গবেষণা প্রতিবেদন লিখেছেন। মেডিকেল মাইকোলজি কেস রিপোর্টস নামের একটি জার্নালে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৬১ বছর বয়সী আক্রান্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ হয়নি। তিন মাস ধরে কর্কশ কণ্ঠস্বর, কাশি, ক্লান্তি এবং গিলতে অসুবিধার মতো উপসর্গে ভুগতে থাকার পর কলকাতার একটি হাসপাতালের শরণাপন্ন হন ওই ব্যক্তি। আক্রান্ত ব্যক্তির ডায়াবেটিস, এইচআইভি সংক্রমণ, রেনাল রোগ, কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ, ইমিউনোসপ্রেসিভ ওষুধ সেবন বা মানসিক আঘাতের ইতিহাস নেই। পেশায় ওই ব্যক্তি একজন উদ্ভিদ মাইকোলজিস্ট বা ছত্রাক গবেষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গবেষণার অংশ হিসেবে ক্ষয়িষ্ণু উপাদান, মাশরুম এবং বিভিন্ন উদ্ভিদ ছত্রাক নিয়ে কাজ করছিলেন। দীর্ঘদিন ছত্রাকের সংস্পর্শে আসায় তিনি এতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

বিরল এ সমস্যা নিয়ে গবেষণাটি করেন কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের ডা. সোমা দত্ত ও ডা. উজ্জ্ববীনী রায়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনড্রোস্টেরিয়াম পারপিউরিয়াম নামের একটি উদ্ভিদ ছত্রাক গাছে রুপালি পাতা রোগের জন্ম দেয়। বিশেষ করে গোলাপ জাতের উদ্ভিদে। এই প্রথম এ উদ্ভিদ ছত্রাক দ্বারা কোনো মানুষ আক্রান্ত হলেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে (মাইক্রোস্কপি ও কালচার) এই ছত্রাক শনাক্ত করা বেশ কঠিন। গবেষকরা এজন্য নিবিড় সিকুয়েন্সিং পদ্ধতিতে এই অস্বাভাবিক প্যাথোজেন শনাক্ত করতে পেরেছেন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিবেশগতভাবে উৎপন্ন উদ্ভিদ ছত্রাক মানুষের দেহেও রোগ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষকরা বলছেন, ছত্রাকের বারবার সংস্পর্শ এই বিরল সংক্রমণের কারণ হতে পারে। ম্যাক্রোস্কোপিক ও মাইক্রোস্কোপিক মরফোলজিতে ছত্রাকের সংক্রমণ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু সংক্রমণের প্রকৃতি, বিস্তারের সম্ভাবনা ইত্যাদি নিশ্চিত করা যায়নি। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এরপর এক্স-রে তে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি এবং রোগী ছত্রাকবিরোধী ওষুধ গ্রহণ করেছেন। গবেষকরা বলেছেন, দুই বছর ফলো-আপে তারা রোগীকে সুস্থ পেয়েছেন এবং সংক্রমণ পুনরাবৃত্তির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত