নতুন কারিকুলামে ডিজিটাল প্রযুক্তির শিখন পদ্ধতি

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৩, ১০:২৭ পিএম

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের ২০২১ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কথা মাথায় রেখে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ও ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করতে আমাদের শিক্ষাক্রমে শিখন শেখানোর পদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তনশীল বিশে^ বর্তমান সময়ে খাপ খাইয়ে চলার জন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি হতে হবে। ভবিষ্যৎ কর্মজগতে অনেক পরিবর্তন আসবে, যেখানে আমাদের টিকে থাকতে হলে নিজেকে তৈরি করতে হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমাদের শিখন শেখানোর পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন দরকার। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই নতুন কারিকুলাম যেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নাম পরিবর্তিত হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি হয়েছে।

আগের শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা শুধু তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম হিসেবে তৈরির প্রচেষ্টা ছিল। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজের এবং পারিপাশির্^ক সমস্যা সমাধানের জন্য সমস্যার ডিজিটাল সমাধান উদ্ভাবন করতে পারবে। এর ফলে আইসিটি সক্ষমতার বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সক্ষমতাও তৈরি হবে, যা তাকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

এই শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তি হলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি ক্লাসেই কিছু কিছু নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাবেম যার ফলে শিক্ষার্থীদের সব ইন্দ্রিয় কাজে লাগবে। এই অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনকে চারটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। একটি চিত্রের মাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায়। নতুন কারিকুলামে এই শিক্ষক গাইড হতে সংগ্রহকৃত এই চিত্রে আমরা দেখতে পাই শিক্ষার্থীরা চারটি ধাপে শিখবে।

ধাপ ১ : শিক্ষার্থী কোনো একটি কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাবে।

ধাপ ২ : শিক্ষার্থী তার কাজ সম্পর্কে সংশ্লেষণ ও বিশ্লেষণমূলক চিন্তা করবে।

ধাপ ৩ : শিক্ষার্থী যা ধারণা পেল এবার একটি কাজ করার মাধ্যমে তা প্রয়োগ করবে।

ধাপ ৪ : শিক্ষার্থী তার কাজ ও চিন্তার সঙ্গে তথ্য সংযুক্ত করবে।

ব্যাখ্যা : ধাপ ১-এ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিতে আকর্ষণ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষক নিজ অবস্থান থেকে উৎসাহ প্রদানমূলক বক্তব্য রাখবেন। যার ফলে শিক্ষার্থীদের কাজে আগ্রহ বাড়বে। তাদের মধ্যে উদ্দিপনা তৈরি হবে নতুন কিছু করার। এ ধাপে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে বাস্তব জীবন সংশ্লিষ্ট কাজ করার জন্য মনোযোগী করতে হবে। এ অধ্যায়কে অভিজ্ঞতা নামে অভিহিত করা হয়। প্রতিটি ক্লাসকে সেশন নামকরণ করা হয়। এখানে প্রতিটি সেশনে শিক্ষার্থীরা নতুন কোনো কাজ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

ধাপ ২ এ বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করার সময় শিক্ষার্থীরা কোনো একটি বিষয় নিয়ে যথাযথ বিশ্লেষণ করতে পারবে। তার বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে বের হওয়া তথ্য ব্যবস্থাপনা ও কাজে লাগানোর জন্য তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

ধাপ ৩ এ এবার শিক্ষার্থী প্রাপ্ত ধারণালদ্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নতুন কোনো বিষয়ে তার সে ধারণা প্রয়োগ করার জন্য সচেষ্ট হয়ে উঠবে।

ধাপ ৪ এ শিক্ষার্থী তার কাজ ও চিন্তার সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করে তা সমাজজীবনে বাস্তবে কাজে লাগাবে।

লেখক : প্রভাষক

উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত