দেশে প্রতিবছর ৭ শতাংশ নবজাতক নানা ধরনের শারীরিক ত্রুটি নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। এই সংখ্যা উন্নতবিশ্বে শিশুর জন্মগত ত্রুটির হারের চেয়ে বেশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নবজাতক বিভাগে ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আসা ১১ হাজার ২৩২ জনের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক সেমিনারে গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সেমিনারে চিকিৎসকরা জানান, পৃথিবীব্যাপী প্রতি ১০০ জনে ৩৬ জন, অর্থাৎ ৩-৬ শতাংশ শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। সারা বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মগত ত্রুটির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর শুধু জন্মগত ত্রুটির জন্য জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে প্রায় তিন লাখ শিশু মারা যায়। শিশুমৃত্যুর এই প্রভাব সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেকাংশে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
তারা আরও বলেন, গর্ভ-পূর্ববর্তী এবং গর্ভকালে চেকআপ করা, গর্ভকালে (১৮-২২ সপ্তাহের মধ্যে) আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে জন্মগত ত্রুটি নির্ধারণ করা, গর্ভকালে অসংক্রামক ব্যাধি যেমন : উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, অল্প বয়সে এবং অধিক বয়সে গর্ভনিরোধ, আয়োডিনযুক্ত লবণের মতো খাবারের সঙ্গে ফলিক অ্যাসিড মেশানোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ সম্ভব।
সেমিনারে জানানো হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জন্মগত ত্রুটি নিয়ে ‘ন্যাশনাল নিওনেটাল অ্যান্ড পেরিনেটাল ডেটাবেইস (এনএনপিডি) অ্যান্ড নিউবর্ন বার্থ ডিফেক্ট (এনবিবিডি) সার্ভিল্যান্স ইন বাংলাদেশ’ অথবা সংক্ষেপে ‘বার্থ ডিফেক্ট সার্ভিল্যান্স ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। দেশের ২০টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, এসইএআরও এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহায়তা করে। আর বিএসএমএমইউর নবজাতক বিভাগ প্রকল্পটির কার্যক্রম প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনা করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। বিএসএমএমইউর নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দের সঞ্চালনায় জন্মগত ত্রুটি সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন নবজাতক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইসমাত জাহান।
