রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি অভিযুক্ত করা হয়েছে। একজন সাবেক পর্নো তারকার সঙ্গে ট্রাম্পের যৌন সম্পর্কের খবর গোপন রাখার জন্য ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। ট্রাম্প অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ট্রাম্পকে ফাঁসানো হয়েছে। ট্রাম্পের গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধের জন্য অনলাইনে আহ্বান জানাচ্ছে। এর মধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপ বলছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা এ ফৌজদারি অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রকেই বিভক্ত করেছে। এমনকি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ট্রাম্পের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে সংবাদমাধ্যমটি।
স্থানীয় সময় গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জরিপটি চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। জরিপে অংশ নেওয়া দেশটির নাগরিকদের ৪৯ শতাংশ মনে করেন প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তার সঠিকই ছিল। কৌঁসুলিরা তাদের এখতিয়ারের মধ্যেই কাজটি করেছেন।
অন্যদিকে নিজেদের যারা ডেমোক্র্যাট দাবি করেন তাদের মধ্যে ৮৪ শতাংশের ভাষ্য, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথাযথ। অবশ্য রিপাবলিকদের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ অভিযোগ গঠনের পক্ষে মতামত দিয়েছে।
আগামী নির্বাচনে এ অভিযোগ কেমন ভূমিকা রাখতে পারে তারও একটা ধারণা মিলেছে জরিপে। রিপাবলিকদের ৪০ শতাংশ বলেছেন, তারা ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকেই ভোট দেবেন। ১২ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের বিষয়ে তাদের আগ্রহ কমে গেছে। আর ৩৮ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণে রাজনীতির মাঠে তাকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো হেরফের হবে না।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫৮ শতাংশ রিপাবলিকানের ভাষ্য, তারা চান আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পই তাদের দলকে নেতৃত্ব দেবেন এমন আশা তাদের। অথচ ট্রাম্প অভিযুক্ত হওয়ার আগের দিন এ হার ছিল ৪৮ শতাংশ।
রয়টার্স বলছে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা যখন ট্রাম্পের বিচার হওয়া নিয়ে কথার লড়াই চালাচ্ছেন তখন এ জরিপ বলছেন, ট্রাম্পের যৌন জীবনের কোনো অপবাদ বা অভিযোগ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ আমেরিকানদের ৭৩ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগটি হওয়া যৌক্তিক। যদিও রিপাবলিকানদের ৭৬ শতাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক এ মামলার মাধ্যমে ট্রাম্পকে অপরাধী করা হয়েছে। একই মনোভাব পোষণ করে ডেমোক্র্যাটদেরও একটা বড় অংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪ জনের মধ্যে ৫১ শতাংশ মনে করে আগামী ভোটের দৌড়ে ট্রাম্পকে হারিয়ে দিতে পারে এ অভিযোগ। যদিও রিপাবলিকানদের মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশের তেমন শঙ্কা আছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত নভেম্বরে ট্রাম্প নিজেকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর ফলে অনিবার্যভাবেই তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে। অনেকের ধারণা, চলতি তদন্তগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রমাণের লক্ষ্যেই তিনি সবার আগে এবং এত লম্বা সময় আগে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।
ট্রাম্পের এ রণকৌশল কাজে লেগেছে বলেই মনে হয়। নিজ দলীয় সমর্থকদের মধ্যে তার প্রতি সমর্থন আগের চেয়েও তুঙ্গে। অভিযোগপত্র গঠনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গত কয়েক দিনে ট্রাম্প তার সমর্থকদের কাছে থেকে আট মিলিয়ন ডলারের বেশি চাঁদা সংগ্রহ করেছেন। তাই ট্রাম্প ও তার শিবির অভিযোগকে শাপে বর হিসেবেই দেখছে।
