অবশেষে শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন নগরের পাহাড়তলী থানার সেই উপপরিদর্শক দুলাল মিয়া। গত ২১ মার্চ ১০ বছরের শিশুকন্যা আয়নীর নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করতে গেলে তার মায়ের সঙ্গে অসদাচরণ করেন পুলিশের এই সদস্য। নিখোঁজের ৮ দিন পর ২৯ মার্চ সকালে নগরের পাহাড়তলী আলমতারা মুরগির ফার্ম এলাকার একটি ডোবায় প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর আয়নীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পিবিআই। আয়নীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে আয়নীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
অভিযোগ, মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ৮ দিন আগে পাহাড়তলী থানায় মেয়ে নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন ভিকটিমের মা। জিডিটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই দুলাল মিয়া। সন্দেহভাজন সবজি বিক্রেতা রুবেলই মেয়েকে গুম বা হত্যা করতে পারেন এসআই দুলালকে এমন তথ্যও দেন মা। পরে রুবেলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্যজনক কারণে ছেড়েও দেন এসআই দুলাল।
তাকে ছাড়ার কারণ জানতে গিয়ে আয়নীর মায়ের সঙ্গে চরম অসদাচরণ এবং অপেশাদার আচরণ করেন এসআই দুলাল। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে তিনি (এসআই দুলাল) বলেন, ‘তোমার মেয়ে প্রেম করে হয়তো কারও সাথে চলে গেছে।’ থানায় আসা একজন সেবাপ্রার্থী নারীর প্রতি পুলিশের এমন আচরণে চরম হতাশ হন ওই নারী। তার অভিযোগ, পুলিশ সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে তার মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।
এদিকে আয়নীকে জীবিত নয়, তাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং পিবিআই কর্তৃক লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শিশুটির মায়ের প্রতি অসদাচরণ করায় এসআই দুলালকে তাৎক্ষণিক ক্লোজড করে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত উপকমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশুকন্যা আয়নীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তদন্তে গাফিলতি, অবহেলা ও অসদাচরণ করায় নগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে এসআই দুলালের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেন পুলিশ কর্মকর্তা আসিফ মহিউদ্দিন। এডিসি আসিফ নিখোঁজ ডায়েরি তদন্তের ক্ষেত্রে অবহেলার জন্য এবং অসদাচরণের জন্য এসআই দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করে গত মঙ্গলবার সিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এর আগে নিজের মেয়ের খোঁজ না পাওয়ায় এবং পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করায় গত ২৮ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ চট্টগ্রামে মামলা করেন শিশুটির মা। আদালতে মামলার পর সবজি বিক্রেতা রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিখোঁজের ৮ দিন পর ২৯ মার্র্চ রাতে পাহাড়তলী থানাধীন মুরগি ফার্ম এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিড়ালছানার লোভ দেখিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার আগে আয়নীকে ধর্ষণ করা হয় বলে পিবিআইর জিজ্ঞাসাবাদে জানান ঘাতক রুবেল। পাহাড়তলী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসআই দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে।’
