ফর্মে থাকা আর্লিং হালান্ডকে প্রথমার্ধ আটকে রাখতে পেরেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। তবু ম্যাচের আক্রমণে দাপট ছিল স্বাগতিক ম্যানচেস্টার সিটির। ২৭ মিনিটে রদ্রির গোলে এগিয়ে যায় পেপ গার্দিওলার দল। বিরতির পর বায়ার্ন হজম করে আরও দুই গোল। দুটোতেই অবদান ওই হালান্ডের। ম্যাচের ৭০ মিনিটে তার অ্যাসিস্টে দলকে গোল এনে দেন বার্নার্দো সিলভা। ৬ মিনিট পর গোলের খাতায় নাম লেখান হালান্ড নিজেই।
৩-০ গোলের এ জয়ের মধ্য দিয়ে বায়ার্ন কোচ টমাস টুখেলের ওপর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল হারের প্রতিশোধও নিয়ে নিলেন সিটি কোচ গার্দিওলা। ২০২১ সালে তখনকার চেলসি কোচ টুখেলের কাছে শিরোপা হাতছাড়া করেছিলেন সিটির গার্দিওলা।
গার্দিওলা শুরুতে দলকে খেলান ৩-২-২-৩ ফরমেশনে। পরে দ্রুত কৌশলে বদল এনে ৪-২-১-৩ ফরমেশনে খেলতে শুরু করে সিটিজেনরা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে হালান্ড শট নিলেও সেটি ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। ঘরের মাঠে সিটির হাই প্রেসিং ফুটবল খেলে। তা সামলে বায়ার্নও করে আক্রমণ। ২৬ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার শট বক্সে রুখে দেন সিটি ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াজ। এক মিনিট পরই এগিয়ে যায় সিটিজেনরা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান রদ্রি।
বিরতির পর প্রথম মিনিটেই লেরয় সানের শট ঠেকান সিটি গোলকিপার এদেরসন। তিন মিনিট পর সানের আরেক আক্রমণ ঠেকান সিটি গোলকিপার। ৭০ মিনিটে জ্যাক গ্রিলিশের প্রেসিংয়ে নিজেদের পোস্ট থেকে ২৫ গজ দূরে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান বায়ার্নের উপামেকানো। দারুণ এক ব্যাকহিলে সেই বল গ্রিলিশ বাড়িয়ে দেন হালান্ডকে। ক্রসে সিলভার দিকে বল বাড়ান হালান্ড। হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সিলভা। জন স্টোনস হেডে বল বাড়ান হালান্ডের দিকে। দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান হালান্ড। মৌসুমে তার গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫। প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন নওরোজিয়ান এই স্ট্রাইকার। এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ সব ধরনের প্রতিযোগিতায় করেছিলেন ৪৪ গোল। তার মতো ৪৪ গোল আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রুদ ফন নিস্টলরয়ের। হালান্ডের সামনে সুযোগ থাকছে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার।
২০১৪-১৫ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমির প্রথম লেগে বার্সেলোনার কাছে ৩-০ গোলে হারলেও, ফিরতে লেগে ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে জিতেছিল বায়ার্ন। তবে দুটি অ্যাওয়ে গোলে বার্সা উঠে যায় ফাইনালে। এবার অ্যাওয়ে গোল নেই। ১৯ এপ্রিল ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে সিটিকে ৪-০ গোলে হারাতে হবে বায়ার্নকে, যা খুব কঠিনই। তবু টুখেল জানিয়ে রাখলেন ঘরের মাঠে বায়ার্ন ভিন্ন এক দল। ‘অবশ্যই সবাই হতাশ। তবে আমাদের অনুভূতি মিশ্র। ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি আমি এবং তাদের মনে হচ্ছে না যে ৩-০ হওয়ার মতো খেলেছে তারা। তবে বাস্তবে এটা ৩-০, এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা হাল ছাড়ব না। লড়াই করব। আর জার্মানিতে ঘরের মাঠে খেলা মানে খেলা শেষে ড্রেসিং রুমে ফেরার আগ পর্যন্ত শেষ বলে কিছু নেই।’
জয়ের পর সিটি কোচ গার্দিওলা বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখে আমি তিন বছর কাজ করেছি। দলটির বিশেষত্ব আমার অজানা নয়। তারা ইউরোপের সেরা একটি দল। এই প্রতিযোগিতায় নকআউট পর্ব উৎরাতে হলে দুটি ভালো ম্যাচ খেলতে হবে। প্রথম ধাপে আমরা সফল। আশা করি পরেরটাতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারব। আমি জানি সেখানে আমাদের কী করতে হবে।’
বেনফিকাকে হারিয়ে এগিয়ে থাকল ইন্তার : ঘরেরা মাঠে ম্যাচের অধিকাংশ পরিসংখ্যানে ইন্তার মিলানের চেয়ে এগিয়ে ছিল বেনফিকা। তবে ম্যাচ জিততে পরিসংখ্যান নয় প্রয়োজন গোলের। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায় ইতালির ক্লাবটি। বেনফিকাকে ২-০ তে হারিয়ে সেমির পথে এগিয়ে গেছে ইন্তার। গোল করেন নিকো বারেল্লা ও রোমেলু লুকাকু।
ম্যাচ জমে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তোনির ক্রস থেকে হেডে গোল করে ইন্তারকে এগিয়ে দেন বারেল্লা। গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় বেশ কিছু আক্রমণ করে বেনফিকা। তবে ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলে ইন্তার মিলান নজর দেয় ডিফেন্সে। ৭৭ মিনিটে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে ইন্তারকে পেনাল্টিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন জোয়াও মারিও। স্পট কিকে ভুল করেননি ৬৩ মিনিটের সময় বদলি নামা লুকাকু।
