বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করা তেলভর্তি ট্যাংকার ‘এমটি ইবাদি-১’-এর ইঞ্জিনরুমে বিস্ফোরণে দুই কর্মচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়াও আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরও তিনজনকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নগরীর বান্দরোডের মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপোসংলগ্ন নদীতে এই ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের সময় ১৬ জন ক্রু ট্যাংকারে ছিল বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন মো. স্বাধীন (২২) ও বাবুল কান্তি দাস (৬৪)। এই দুজনের বাড়ি চট্টগ্রাম। হাসপাতালে ভর্তি তিন কর্মচারী হলেন কুতুব উদ্দিন, মো. রুবেল ও কামাল হোসেন। নিখোঁজ রয়েছেন আবুল কাশেম।
ট্যাংকারের কর্মচারীরা জানান, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিডেট বরিশাল ডিপোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে তিন দিন আগে তেল নিয়ে কীর্তনখোলা নদীতে এসেছে এটি। এতে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল ভর্তি ছিল। সেই তেল উত্তোলনের জন্য ইঞ্জিন চালু করলে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্যাংকের এক কর্মচারী জানান, গত তিন দিন আগে জাহাজ কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করে। জাহাজ থেকে মেঘনা ডিপোতে তেল উত্তোলন করতে বিকেলে ইঞ্জিন চালু করতে ছয়জন কর্মচারী ইঞ্জিনরুমে যান। তখন ইঞ্জিন চালু করলে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দ্রুত এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছি। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা পায় জাহাজটি। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, জাহাজের ইঞ্জিন রুমের এয়ারকম্প্রেশার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত।
এ ঘটনার পর বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, নিহত দুজনের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া আহতদের চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানান তিনি।
