অরক্ষিত দ্বীপে আতঙ্কের দিন

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ০৩:৪৯ পিএম

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, ইতিমধ্যে সাড়ে ১৪ শ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। তবে চরআন্ডার ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এখনও বিধ্বস্ত। আমরা সেটি নির্মাণের জন্যও প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে বাঁধটি নির্মাণকাজ শুরু হবে।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'মোখা'। নেই টেকসই বাঁধ। নেই পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রও। বিচ্ছিন্ন এমন স্থানও রয়েছে, যেখানে বাঁধ কিংবা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কোনোটাই নেই। ভাঙা বাঁধ নিয়ে শঙ্কায় উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষ। তিন দিকে নদী ও একদিকে সাগর ঘেরা এ জনপদের মানুষের কাছে দুর্যোগের খবর মানেই আতঙ্ক।

স্থানীয়রা বলছেন, সাগর ও নদী ঘেরা এই দ্বীপের বাঁধগুলো কোথাও ভাঙা, কোথাও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কোনো এলাকায় নেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। ঘূর্ণিঝড় 'মোখা' যতই এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে শঙ্কা। কারণ বেশির ভাগ বেড়িবাঁধই অরক্ষিত। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বিছিন্ন দ্বীপ চর নজির, চর হেয়ার ও চর কাশেমের মানুষ।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের বিছিন্ন দ্বীপ চর নজরিরে বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, হুনছি (শুনেছি) বন্যা আসতাছে। আমরা খুব আতঙ্ক আছি, আমাদের এই চরে শেল্টার (ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র) নাই। বন্যা হলে আমরা কই যাবো বাবা? বন্যা হলেও আমাদের বাড়ি-ঘর সব তলাই (ডুবে) যায়। গেলো (গত) কয়েক বছরের বন্যায় আমর ছেলে-সন্তান নিয়ে আমি গাছে ছিলাম। তিনি আরও বলেন, আমাদের এই চরে একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র জরুরি। ঘূর্ণিঝড় আসলেই তাদের আতঙ্ক থাকতে হয়।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় 'মোখা' মোকাবিলায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৮৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে ও নদীভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের সংস্কার করা হলেও উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকার প্রায় ৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক জোয়ারে চেয়ে একটু বেশি পানি হলেই ওই এলাকার ভাঙা ও সংস্কারহীন বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের শঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার উত্তর চালিতাবুনিয়ায় বেড়িবাঁধের একাংশ দিয়ে লোকালয় পানি প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এ ছাড়াও বেরিবাঁধহীন রয়েছে উপজেলার চরনজির, চরকাশেম, কাউখালী, চরকানকুনি। জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে ওইসব এলাকাসমূহ।

উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা ৯ নম্বর ওয়ার্ডরে ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেন বলেন, উপজেলার বিছিন্ন ইউনিয়ন চরমোন্তাজ আবার চরমোন্তাজের বিছিন্ন একটি চর হলো চরআন্ডা। সেই চরের চারদিকেই নদী ও সমুদ্র। সেই চরআন্ডা গ্রামে প্রায় ৪ হাজার লোকজনের বসবাস। আর একটি মাত্র সাইক্লোন শেল্টার যা পর্যাপ্ত নয়। পূর্ব এবং পশ্চিম পাশে বেড়িবাঁধ ভাঙা যার কারণে খুব দ্রুত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এ ছাড়া দুর্যোগ আসলে আমাদের সব সময় চিন্তায় থাকতে হয়। ঝড়-বন্যায় আমরা কোথায় যাব তার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। এখানে নামেমাত্র একটামাত্র সাইক্লোন শেল্টার যেখানে প্রায় দেড় থেকে ২ শ লোক আশ্রয় নিতে পারে।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, ইতিমধ্যে সাড়ে ১৪ শ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। তবে চরআন্ডার ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এখনও বিধ্বস্ত। আমরা সেটি নির্মাণের জন্যও প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে বাঁধটি নির্মাণকাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, আমরা ইতিমধ্যে একটি মিটিং করেছি। এবং সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখার জন্য বলছি। যদি সতর্ক সংকেত বাড়ে সে ক্ষেত্রে আমরা মাঠে নামব মাইকিং করে সচেতনতা বাড়াব এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলব। এ সময় তিনি আরও বলেন, যেহেতু চরআন্ডা-চর নজির খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সেহেতু আমরা ওখানকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলব। এদের ব্যাপারে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে। প্রয়োজন হলে একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পারসন হিসেবে ট্যাগ (যুক্ত) করে রাখব। এখন তো আশ্রয়কেন্দ্রে তৈরি করতে পারব না। আবহাওয়ার বিশেষ পরিবর্তন হলে আমরা ওখান কিছু লোকজন উদ্ধার করে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। আর বেড়িবাঁধের বিষয়ে আমাদের প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত