দেশের জনপ্রিয় নৃত্য জুটি শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নীপা। দেশ-বিদেশে অসংখ্যা অনুষ্ঠান করেছেন তারা। নৃত্য নৈপুণ্যে জিতে নিয়েছেন দর্শকমন। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও কিভাবে জুটি ধরে রাখলেন তারা? আর শুরুতেই কি বুঝতে পেরেছিলেন তাদের জুটিটি এভাবে পরিচিত পাবে?
সম্প্রতি দেশ রূপান্তরকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী নীপা।
তিনি বলেন, ‘না, একদমই ভাবিনি। আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করি তখন থেকে হাসান ইমাম, জামাল আহমেদ লাভলু, যুবরাজসহ অনেকের সঙ্গেই ডুয়েট নেচেছি। সেভাবে জুটি হয়নি। আমার একক একটা জায়গা তৈরি হচ্ছিল সেটা বুঝতে পারতাম।’
নীপা বলেন, ‘ও (শিবলী) যখন ভারত থেকে নাচ শিখে আসল, তখন আমরা সার্ক ফেস্টিভ্যালে সাত ভাই চম্পা নৃত্যনাট্যটি করছিলাম। আমি ওকে আগে থেকেই চিনতাম। চাচ্ছিলাম ওকে একটি ভালো সুযোগ দিতে। মন্টা মামাকে (মোস্তফা মনোয়ার) বললাম। উনি বললেন, ছেলেটা ঘুরতে পারে? আমি বললাম, হ্যাঁ। কিন্তু শেষে দেখা গেল ওকে একটি জল্লাদের চরিত্র দিয়েছে।’
সে সময় শিবলী ভালো সুযোগ না পাওয়ায় মন খারাপ করেছিলেন নীপা। তার ভাষায়, ‘এত বড় মুখ করে ওকে নিয়ে এলাম, লজ্জাই লাগছিল। পরে রিহার্সেলে মন্টু মামা বললেন, নিপা ভুল করে ফেললাম নাকি? এরপর আমরা প্রচ্ছদ নামের একটি অনুষ্ঠানে কত্থকের তারানা নামের নাচটি করলাম। এরপর আর কাউকে বলতে হয়নি যে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সবাই আমাদের একসঙ্গে চাইত। তখন আসলে সময়টাও অন্যরকম ছিল। সবাই ভালোটা গ্রহণ করত।’
নীপা বলেন, আমরা এখনও একসঙ্গে পথ চলছি। আমরা একে অপরের সাফল্যে খুশি হই। কেউ কাউকে ওভার শ্যাডো করতে চাই না। এজন্যই কাজ করাটা সহজ হয়।
এদিকে জুটির বাইরেও দর্শক মনে শিবলী-নীপার ব্যক্তিজীবন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। কেউ তাদের মনে করেন স্বামী-স্ত্রী। কেউ ভাবে অন্যকিছু। এ বিষয়ে মজার একটি ঘটনা উল্লেখ করেন নীপা।
তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্টে দেখা হলে কেউ কেউ বলে ফেলে আপনারা একাই বিদেশে যাচ্ছেন? ছেলেমেয়েকে নিচ্ছেন না? তখন তাড়াহুড়ায় অনেক সময় ক্লিয়ারও করতে পারি না। শিবলী হয়ত মজা করে বলে ফেলল, না ওদের পড়াশুনার অনেক চাপ!’
তবে নীপার মতে, বন্ধুত্বের কারণে এই জুটি তৈরি হয়েছে। তার মতে, ‘প্রেমের সম্পর্ক একটা পরিণতির দিকে যায়। কিন্তু বন্ধুত্ব কখনোই ফুরায় না। সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়।’
