মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিপিএল কোচদের আইপিএল ভাবনা

আপডেট : ২৮ মে ২০২৩, ০২:৪২ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল আজ। আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি চেন্নাই সুপার কিংস ও গুজরাট টাইটানস। একদিকে এমএস ধোনির চেন্নাই, ১০ম বারের মতো খেলছে ফাইনালে। অন্যদিকে আইপিএলের নবীনতম দলগুলোর একটি গুজরাট। গত বছর প্রথমবারের মতো আইপিএলে অংশ নিয়েই শিরোপা জেতা দলটি এবারও পৌঁছে গেছে ফাইনালে।

আইপিএলের এই দুটো মাস বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বলতে গেলে থাকেই না, কারণ শীর্ষ সব ক্রিকেটারই খেলেন এই টি-টোয়েন্টি আসরে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের অনেক দলের কোচদেরও নজর ছিল আইপিএলে।

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপে আইপিএল নিয়ে তাদের অভিমত, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গায়ের জোরের সঙ্গে সাফল্যের যে রসায়ন নিয়ে অনেক বেশি আলাপ হয় সেটা ক্রমেই কমে আসছে। ব্যাটিংয়ে ক্রমশ সেই সব ব্যাটসম্যানরাই সফল হচ্ছেন, যাদের ব্যাটিং দক্ষতা ভালো।

বিপিএলের দল ফরচুন বরিশালের কোচ ছিলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ফাহিম কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছেন দীর্ঘদিন ধরে।

দেশ রূপান্তরকে ফাহিম জানালেন, এবারের আইপিএলের ম্যাচগুলো যতটা দেখেছেন তাতে মনে হয়েছে গায়ের জোরের সঙ্গে সাফল্যের সম্পর্কটা ফিকে হয়ে আসছে, ‘আমি যতটা ম্যাচ দেখেছি বা দেখার সুযোগ পেয়েছি, তাতে মনে হয়েছে এই সংস্করণেও গায়ের জোরের বদলে দক্ষতার ব্যাপারটা সামনে চলে আসছে। গায়ের জোরে সাময়িক সাফল্য পাওয়া যেতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তা সাফল্য আনে না। আমাদের দেশে একটা ধারণা প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল যে টি-টোয়েন্টিতে সফল হতে গেলে অনেক বেশি পেশিবহুল শরীরের অধিকারী হতে হবে, গায়ে প্রচন্ড শক্তি থাকতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা যে আরও বেশি করে স্কিলের খেলা, সেটাই এবারের আইপিএল দেখিয়ে দিল।’

ফাহিম সামনে এনেছেন চার ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি করা শুভমান গিলের উদাহরণটা, ‘গিল কিন্তু ওরকম ৬ ফুট ৯ ইঞ্চির বিশালদেহী কোনো ব্যাটসম্যান নয়, কিন্তু সে বড় বড় ছয় মারছে। ক্রিকেটিং স্কিল দিয়েই রান করছে। বিরাট কোহলি রান পেয়েছে। আজিঙ্কা রাহানে নিজের পুরো খেলার ধরন বদলে ফেলেছে। সেদিন তার ইনিংসটা চোখে পড়ল, সে যেভাবে তার খেলার ধরন সংস্করণ ভেদে বদলে ফেলেছে সেটা অনুকরণীয়।’

আইপিএলের ম্যাচগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এত প্রবল, স্নায়ুর পরীক্ষা নেয় সবার। ফাহিম মনে করেন, আইপিএলের এই স্নায়ুর চাপের ম্যাচগুলোই ভারতের ক্রিকেটারদের তৈরি করে দিচ্ছে বড় মঞ্চের জন্য, ‘শুধু দক্ষতাই নয় মানসিক চাপ নেওয়ার ক্ষমতাটাও আইপিএল থেকে খেলোয়াড়রা শেখে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে ভেঙে পড়া দেখতে পাই, সে রকমটা ভারতীয় ক্রিকেটারদের ভেতর দেখা যায় না কারণ আইপিএল ম্যাচের স্নায়ুর চাপের ব্যাপারটা তাদের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত করে তোলে।’

ফাহিম মনে করেন, এবারের আইপিএলে সবচেয়ে বড় যে বৈশিষ্ট্যটা তার চোখে পড়েছে তা হচ্ছে রান তাড়ার সীমানা বেড়ে যাওয়া। একটা সময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০ রানের একটু ওপরে করলেই সেটা প্রতিপক্ষের জন্য আওতার বাইরে চলে যেত। এখন ২২০-২৩০ রানও অনায়াসে তাড়া করে জিতছে পরে ব্যাট করা দল। ফাহিম মনে করেন মানসিকভাবেই এখন ক্রিকেটাররা বড় রান তাড়া করতে আরও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সের কোচ সোহেল ইসলাম, কাজ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের সঙ্গেও। সোহেলের চোখে এবারের আইপিএলও গুজরাটের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বেশি ফর্মের তুঙ্গে থাকা শুভমান গিলের জন্যই, ‘অবশ্যই শুভমান গিল ফাইনালে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। ক্রিকেটে ফর্মই সব কথা। সেরা ক্রিকেটারের ফর্ম না থাকলে তাকে কেউ মনে রাখে না। এখন শুভমান যে ফর্মে আছে এই সময়ে তার সঙ্গে কোনো তুলনা চলে না। দেখেন একাই চার ম্যাচে তিনটা সেঞ্চুরি করেছে। ওর ব্যাটিং দেখলে মনে হবে ক্লাসিক্যালি সে খুনে মেজাজে থাকে। আর যখন শুরু করে আর থামতে চায় না। এটা গুজরাটের জন্য সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। এছাড়া রশিদ খানকে আমি সামনে রাখতে চাই ওর বোলিংয়ের জন্য। দেখবেন গত ম্যাচেও সে ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছে। তবে এটা ঠিক মহেন্দ্র সিং ধোনি খুবই অভিজ্ঞ ও ঠা-া মাথার অধিনায়ক; সে অবশ্যই শুভমানকে থামানোর একটা কৌশল বের করবে।’

সোহেলের চোখে চেন্নাইয়ের দুর্বলতা ব্যাটিংয়ে, ‘ওদের যে দুই ওপেনার (ঋতুরাজ) গায়কোয়াড় ও (ডেভন) কনওয়ে ওরা খুব ভালো করে। প্রতি ম্যাচেই একটা ভালো প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে যায় প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে। টি-টোয়েন্টিতে এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চেন্নাইকে এটা খুব কাজে দেয়। পরের ব্যাটাররা এ রানের চাপে থাকে না খুব একটা। তবে এই দুই ওপেনার ও শিভম দুবে ছাড়া চেন্নাইয়ের খুব ভালো করা ব্যাটারও কিন্তু নেই।’

হার্দিক পান্ডিয়ার দলের বিপক্ষে চার দেখায় চেন্নাই জিতেছে মাত্র ১ বার, সবশেষ ম্যাচে যেটা ছিল এবারের আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার। গুজরাট জিতেছে ৩ বার। খেলাটা গুজরাটের ঘরের মাঠ আহমেদাবাদে বলেই সোহেল এগিয়ে রাখছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদেরই, ‘একটা বিষয় কিন্তু চ্যালেঞ্জের হবে চেন্নাইয়ের জন্য। দেখবেন চেন্নাই বেশি জিতেছে ওদের মাঠে। ওখানে একটু স্লো পিচ থাকে। কিন্তু ফাইনাল হবে আহমেদাবাদে। সবাই দেখেছে আহমেদাবাদের পিচ কতটা ব্যাটিং সহায়ক। এখানে গুজরাট নিজেদের মাঠে খেলবে, এই পিচের সম্পর্কে তারা ভালো জানে। তাই বেশি রানের পিচে চেন্নাই কীভাবে খেলবে সেটা ফাইনালে ধোনিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

সেই চ্যালেঞ্জ জিতলে চেন্নাই আবার চ্যাম্পিয়ন হবে, না হলে টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলবে হার্দিক পান্ডিয়ার টাইট্যান্স।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত