যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক সংকটে সেবা অপ্রতুল

আপডেট : ২৯ মে ২০২৩, ১২:৫৩ এএম

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ওটি কক্ষে সব ধরনের যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক সংকটে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে চরাঞ্চলসহ উপজেলার সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এই সুযোগে ক্লিনিকগুলো রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছে।

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ভূঞাপুরসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে পার্শ্ববর্তী গোপালপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার একাংশের মানুষজন চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এই হাসপাতালটিতে সব অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না চিকিৎসক সংকটের কারণে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষজন বাড়তি টাকায় চিকিৎসা নিচ্ছে ক্লিনিকগুলোতে। সিজার বা বড় কোনো অস্ত্রোপচারের জন্য অ্যানেস্থেশিয়ার চিকিৎসক নেই। সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। এছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রামের চিকিৎসক ও ইসিজি করানোর জন্য নেই কোনো জনবল। ফলে জরুরি রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ছোটখাটো অস্ত্রোপচার হয়েছে ৯৫১ জনের। টিউমার, ফোঁড়া, সিস্টসহ বিভিন্ন ধরনের রোগীদের কাটাছেঁড়ার জন্য লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহার করে এসব অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালে সিজার না হওয়ায় গত তিন মাসে ১৪২ জন প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছে। এছাড়া তিন মাসে ৬টি সিজার হয়েছে।

হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতালে সিজার হয় না। এছাড়া গাইনি চিকিৎসকও নিয়মিত পাওয়া যায় না। জরুরি রোগীকে টাঙ্গাইল নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের চালকের অভাবে গাড়ি পাওয়া যায় না। ফলে হাসপাতালের পাশে থাকা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হয় বাড়তি টাকা দিয়ে। এছাড়া মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোবাইল বা টর্চলাইট দিয়ে রোগী দেখতে হয়।

ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আবদুস সোবহান বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে সিজার বা বড় ধরনের অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। অ্যাম্বুলেন্সের একজন চালক রয়েছে তাও আবার আউট সোর্সিংয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত। অ্যানেস্থেশিয়া ও সার্জারি চিকিৎসক হাসপাতালে নিয়োগ করা হলে সিজারের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত