রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। তারা চিকিৎসায় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এবং অনৈতিক রিং-বাণিজ্য ও অপচিকিৎসায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নাসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে মারা যাওয়া ব্যক্তির স্বজনরা এই দাবি জানান।
ওই তিন চিকিৎসক হলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম আজম, ডা. শেখর কুমার ম-ল ও ডা. রাশেদুল হাসান কনক। তাদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি জানিয়েছে মারা যাওয়া জাকির হোসেনের স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৃত জাকিরের স্ত্রী নুরুন নাহার তার স্বামীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন চিকিৎসক, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের থেকে পাওয়া তথ্য ও গ্রিন লাইফ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের চিকিৎসায় অবহেলায় স্বীকারোক্তি ও বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বজনদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই জাকির হোসেনের (৫১) হার্টে রিং বসানো হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলায় গত ১৬ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দুই মাস পর সংবাদ সম্মেলনের কারণ জানিয়ে জাকিরের স্ত্রী বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর আমরা হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের কাছে মৌখিক অভিযোগ করি। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সাড়ে ছয় লাখ টাকার বেশি বিল মওকুফ করে দিয়ে ১৬ মার্চ লাশ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেন। তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিক আদেশে ডা. শেখর ও ডা. কনককে বহিষ্কার করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানায়। কিন্তু হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।’
