রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম এলাকা লংথিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়ার সংক্রমণে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে সেখানে আক্রান্ত হয়েছে বিভিন্ন বয়সের অর্ধশতাধিক মানুষ। চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ-পথ্যের অভাবে আক্রান্তদের অবস্থা ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। ছড়ার পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোগটির প্রকোপ বাড়ছে আশপাশের এলাকায়। সাজেক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জোপুইথাং ত্রিপুরা গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার সকালে গবতি বালা ত্রিপুরা (৫০) ও দুপুরে দরুং ত্রিপুরা (৬০) নামের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনেই লংথিয়ান পাড়ার বাসিন্দা।
জোপুইথাং ত্রিপুরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সাজেকের লংথিয়ান পাড়া, অরুণ পাড়া, কাইজা পাড়া, রায়না পাড়া ও শিয়ালদহ এলাকাসহ আশপাশের বেশকিছু এলাকায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মূলত ছড়ার পানি থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে। আশপাশে কোনো হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় স্থানীয় তান্ত্রিক দ্বারা চিকিৎসা নিয়ে থাকেন এলাকাবাসী। এলাকায় যাতায়াতের কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পায়ে হেঁটে এতো দূর থেকে মাচালং ও উপজেলা সদর হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা নিতে যেতে পারে না।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার বলেন, এলাকটি খুবই দুর্গম। হাঁটা পথ ছাড়া বিকল্প নেই। মূলত খাবার পানি থেকে এই রোগ ছড়াচ্ছে। আমরা সংবাদ পাওয়ার পরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অরবিন্দু চাকমাকে একটি মেডিকেল টিম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে পাশের বিজিবি-বিওপি থেকেও স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে, তবে তা খুবই কম।
গতকাল বিকেলে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অরবিন্দু চাকমা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে চার সদস্যদের একটি মেডিকেল টিমকে সেখানে পাঠিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ টিমটি রওনা হয়েছে। সাজেকের কংলাক পাড়া থেকে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছুতে একদিন লাগবে। মেডিকেল টিমের সদস্যরা পৌঁছালে আরও বিস্তারিত জানতে পারব।
এর আগে ২০১৬ সালে ওই এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। সেবার ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় মেডিকেল টিম দীর্ঘ এক মাসের চেষ্টায় রোগ নিয়ন্ত্রণে আনে।
